মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ফাতেমা আক্তার (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রীর অনশনের ঘটনায় ৪ লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২৫ জুলাই) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার কয়েকজনসহ দুই পক্ষের অভিভাবকদের বৈঠকের মাধ্যমে এ রফাদফা করা হয়।
ফাতেমা আক্তার উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হোটনী গ্রামের মৃত আব্দুছ ছাত্তারের মেয়ে। সে দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। স্বামী রাকিব হোসেন (১৯) দেশগাঁও জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তাহের মাস্টারের ছেলে। সে ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার গত শুক্রবার (২২ জুলাই) সকালে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামী রাকিব হোসেনের গ্রামের বাড়ি একই ইউনিয়নের কাশিমপুর আবু তাহের মাস্টারের বাড়িতে অনশনে বসে। এরপর ওই দিন দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে বিষয়টি মিমাংসার দায়িত্ব নেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
এরপর ঘটনার তিন দিন পর সোমবার (২৫ জুলাই) ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু ও এলাকার কয়েকজনসহ দুই পক্ষের অভিভাবকদের বৈঠকের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকায় দফারফা করা হয়। এ সময় সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো উল্লেখপূর্বক একটি লিখিত স্ট্যাম্প করা হয়।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চুর সাথে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে সালিসের মাধ্যমে মিমাংসা করা হয়েছে। ছেলের পক্ষ মেয়েকে ৪ লাখ টাকা দিয়েছে।
সালিসি বৈঠকে উপস্থিত থাকা দেশগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন জানান, মেয়ের পক্ষকে ৪ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সালিসের রায়ের একটি স্ট্যাম্প করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর গত ১৪ জুলাই ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় চাঁদপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে ফাতেমা আক্তার ও রাকিবের বিয়ে করে। বিয়ের পর ওই দিন রাকিব মেয়েটিকে নিয়ে তার বোনের বাসায় উঠে এবং রাত্রিযাপনের পর পরের দিন তাকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
অনশনের সময় ফাতেমা আক্তার বলেন, বাবা-মায়ের সম্মতি নিয়ে রাকিব তার বাড়িতে আমাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই সে আমাকে তালাকনামা পাঠায়। এ ঘটনায় আমার পরিবার ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে কোন সমাধান পাইনি। তাই তার বাড়িতে অনশনে বসি।
২৬ জুলাই, ২০২২।
