মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে দুই রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) সকালে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ পৌর হকার্স মার্কেটের বারেক হাজির নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই রাজমিস্ত্রী আপন দুই ভাই।
তারা হলেন- চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার সুখানদীঘি গ্রামের সাজেমান আলীর বড় ছেলে গোলাম রাব্বানী (৩০) ও মেঝো ছেলে মো. মোহন (২৮)। তারা দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে আসছেন। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইউনুছ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজারস্থ পৌর হকার্স মার্কেটের বারেক হাজি একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। ওই ভবনের প্রধান রাজমিস্ত্রী ও কাজের ঠিকাদার ছিলেন গোলাম রাব্বানি। সহযোগী রাজমিস্ত্রী ছিলেন তার ছোট ভাই মোহন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে তারা দুই ভাইসহ সহকর্মী শ্রমিকের মঙ্গলবার কাজ করতে আসেন।
এরপর এ দিন সকালে নির্মাণাধীন ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে নামেন ছোট ভাই মোহন। এসময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে বড় ভাই রাব্বানিও ট্যাংকে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় সহকারী শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাশদুল আলমসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে অচেতন অবস্থায় দুই রাজমিস্ত্রী রাব্বানি ও মোহনেক উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নিহত গোলাম রাব্বানি ও মোহন হাজীগঞ্জে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজমিস্ত্রী কাজ করে আসছেন। তাদের আচরণ সন্তোষজনক হওয়ায় টোরাগড়, কংগাইশ, মকিমাবাদ ও রান্ধুনীমূড়া এলাকায় মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। যার ফলে তাদের মৃত্যুতে এসব এলাকার মানুষের মাঝে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন সেফটিক ট্যাংকির মুখ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ট্যাংকির ভিতর অক্সিজেন শুন্য হয়ে পড়ে। যার ফলে ট্যাংকিতে নামার সাথে সাথেই অক্সিজেনের অভাবে তারা দুইজন মারা যান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই যুবক রাব্বানি ও মোহনকে মারা গেছেন।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৮ মে, ২০২২।
