মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় আদর্শ সমাজ (পঞ্চায়েত) ব্যবস্থা অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুলাই সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জনপ্রতি প্রায় ৩ কেজি করে মাংস প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, শত বছর আগে টোরাগড় গ্রামে দু’টি সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে গ্রামের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে চারটি সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়ে থাকে।
এর মধ্যে অন্যতম টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা। ১৯৪১ সাল থেকে এই সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়াও সমাজ ব্যবস্থার বাহিরে এবং যারা সমাজ ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়, তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নিজ নিজ উদ্যোগে কোরবানির মাংস মানুষের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ আমল থেকে অর্থাৎ উনিশের দশক থেকে টোরাগড় গ্রামে সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানি মাংস বিতরণ করা হয়। ওই সময়ে সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে পরবর্তীতে ১৯৪১ সালে লোপ্তে আলী মিজির নেতৃত্ব আব্দুল হক মৃধা, আলী উল্যাহ মৃধা, সুলতান সর্দার, নূর খাঁ ও ইদ্রিস মজুমদারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা নামে গ্রামের আরেকটি সমাজ চালু করেন।
এরপর থেকে কোনো ধরনের সমালোচনা ছাড়াই শতবর্ষ পর্যন্ত চলমান রয়েছে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা নামে এই সমাজ। তাদের পর বর্তমানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম মিলে বর্তমানে এ সমাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং যারা এই সমাজ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেন, তারা বিনা পারিশ্রমিকে এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজটি করে থাকেন।
সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম সদস্য ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম খাঁন জানান, তিনি আশির দশক থেকে এ সমাজ ব্যবস্থার সাথে জড়িত। তখনকার সময় ১২টি গরু দিয়ে শুরু। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এখন এই সমাজ ব্যবস্থা তিন ভাগ হয়েছে। এবং প্রতিটি সমাজেই সমবন্টনের মাধ্যামে মাংস বিতরণ করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০টি গরু কোরবানি হয়ে থাকে। পাশাপাশি গরুর সাথে অনেকে খাসিও কোরবানি দেন। কোরবানিকৃত এসব পশুর তিন ভাগের এক ভাগ সমাজ ব্যবস্থার কাছে দেওয়া হয়। যারা কোরবানি দিতে না পারে, সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমবণ্টন করে তাদের মাঝে কোরবানির মাংস দেয়া হয়ে থাকে।
বর্তমানে সমাজ ব্যবস্থার সাথে যারা জড়িত তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- আনোয়ার হোসেন বতু, দুলাল মিজি, শাহজাহান তালুকদার, আবুল হাসেম ভূঁইয়া, জামাল মিজি, দেলোয়ার মিজি, মান্নান মৃধা, দেলোয়ার হোসেন (মোমবাতি), আকবর মৃধা, এনায়েত উল্যাহ, শহিদ মৃধা, শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, মনির খন্দকারসহ আরো অনেকে।
২৮ জুলাই, ২০২২।
