হাজীগঞ্জে ২৪৯০ কেজি সরকারি চাল জব্দ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পৃথক দুইটি বসতবাড়ি থেকে ৮৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (২৪ জুন) রাতে ওই ইউনিয়নের দেশগাঁও গ্রামের মাইজের বাড়ি ও আটিয়া বাড়ি থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহানের নেতৃত্বে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ এ চাল জব্দ করেন।
এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই সময়ে শত শত উৎসুক জনতা সরকারি চাল জব্দের খবরে মাইজের বাড়ি ও আটিয়া বাড়িতে হাজির হয়। এ ঘটনায় এলাকায় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। চাল উদ্ধারের ঘটনায় গাঢাকা দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বাচ্চু।
জানা গেছে, সরকারি চাল বসতবাড়িতে মজুদ করার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু কুমার দত্ত মিঠু ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌ. মো. জাকির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মাইজের বাড়ি ও আটিয়া বাড়িতে অভিযান চালান।
অভিযানে মমিনের বসতঘর থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল-সংবলিত ২২ বস্তা ও জাহাঙ্গীর আলমের বসতঘর থেকে ৬১ বস্তা সরকারি চালসহ মোট ৮৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেন। এর মধ্যে প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ২ হাজার ৮৯০ কেজি চাল রয়েছে। একই সময়ে মমিনের বসতঘর থেকে ৮টি খালি বস্তাও জব্দ করা হয়।
এসময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে ও মমিনের জামাতাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই চাল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঈদ উপহারের জিআর প্রকল্পের। ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু কারসাজি করে এই চাল গোপনে বিক্রি করার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযান চলাকালীন সময়ে স্থানীয়রা সংবাদকর্মীদের বলেন, কোরবানির (ঈদ-উল আজহা) আগে প্রত্যেক গরিব মানুষকে ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান ট্যাগ অফিসারের যোগসাজশে আমাদের মাত্র ৫/৬ কেজি করে চাল দিয়ে বাকি চাল আত্মসাত করেছে। আজ ধরা খাইছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মো. আব্দুল হালিম সংবাদকর্মীদের জানান, বিষয়টি দেখার জন্য হাজীগঞ্জ থানার একজন এসআই ও উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা গোডাউনে চালের বস্তাগুলো মিলাচ্ছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে গোডাউন থেকে যতবস্তা চাল বের হয়েছে, সব বস্তার গায়ে সুনামগঞ্জ লেখা ছিলো। এতে বুঝা যাচ্ছে চালগুলো জিআর এরই হবে। এছাড়া একই লেখা সংবলিত বস্তায় কাবিখার চালও সাপ্লাই দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, কাবিখার চাল তো বাজারেই বিক্রি করে দেয়।
এ ব্যাপারে গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু বলেন, এ চালগুলো কাবিখার। স্থানীয় মেম্বার চালগুলো গ্রামের লোকদের কাছে বিক্রি করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেম্বার পলাতক কিনা তা আমি বলতে পারবো না।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর জানা যাবে চালগুলো জিআর নাকি অন্য কোন প্রকল্পের। যদি জিআর এর হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৬ জুন, ২০২৪।