হাজীগঞ্জে ৭৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৭ লাখ নতুন বই

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে উৎসবের জন্য ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৭৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৭ লাখ নতুন বইয়ের চাহিদা দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। প্রতি বছরের মতো নতুন বছরের শুরুতেই উৎসবের আমেজে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের চাহিদার ৭০ ভাগ বই এসেছে।
আগামি পহেলা জানুয়ারি বিনামূল্যের বই বিতরণ কর্মসূচি শিক্ষায় সরকারের বড় সাফল্য। ধারাবাহিকভাবে গত ১৪ বছর একটানা বই উৎসবের মাধ্যমে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ সাফল্য অব্যাহত রাখতে চায় সরকার। তাই, আগামি শিক্ষাবর্ষেও নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বই দিচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে উপজেলায় ২শ’ ৪৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে ১৫৭ টি সরকারি ও ১টি পরীক্ষণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮২টি কিন্ডার গার্টেন ও ৪ টি অন্যান্য বিদ্যালয়। মাধ্যমিক স্তরে ১ টি সরকারি হাই স্কুলসহ উপজেলায় ৩৩ টি মাধ্যমিক ও ২৩ টি মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবগুলো প্রতিষ্ঠানে ইবতেদায়ী এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৭৭ হাজার ৪২২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০টি বইয়ের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকের চাহিদার ৭০ ভাগ ও মাধ্যমিকের ৭০ ভাগ বই গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। প্রাপ্ত বইগুলো ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান।
প্রাথমিকের চাহিদা অনুযায়ী, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে উপজেলায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৩৩ হাজার ৯০০ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর জন্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ টি বই এবং ইবতেদায়ী প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ১০ হাজার ৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৭২ হাজার ৯৪০ টি নতুন বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিকের চাহিদা অনুযায়ী ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ২৩ হাজার ৪০ জন কিশোর শিক্ষার্থীর জন্য ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টি বই এবং মাদরাসায় ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ১০ হাজার ৩৯০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৬০ টি নতুন বইয়ের নতুন বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে চাহিদা অনুযায়ী বইগুলো আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আমরা ৭০ ভাগ বই হাতে পেয়েছি এবং প্রাপ্ত বইগুলো তালিকা অনুযায়ী সব বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি বইগুলো সহসায় পেয়ে যাবো বলে আশা রাখি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, চাহিদার ৭০ ভাগেরও বেশি বই পেয়েছি এবং আগামি সপ্তাহের মধ্যেই বাকি বইগুলো পেয়ে যাবো। তিনি বলেন, প্রাপ্ত বইগুলো (ইবতেদায়ী, দাখিল ও স্কুল) বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি এবং বেশিরভাগ বই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বই পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু ছাইদ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন টিটু, ধড্ডা পপুলার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোৎস্না বেগম, স্বর্ণকলি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মহিবুর রহমান, স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩।