হাজীগঞ্জ গোল্ডেন হসপিটালের ভুল তথ্যে মৃত্যুর মুখে এক রোগী

ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ বাজারস্থ গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের ভুল রিপোর্টে তাছলিমা বেগম (৪২) নামের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী মৃত্যুর মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে হসপিটলারে বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও তার পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা গেছে, গলায় কিছু একটা আটকে দম বন্ধ হয়ে আসছে এমন সমস্যা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবে তাছলিমা বেগমকে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে তাঁর গলার এক্স-রে করানো হলে কোন সমস্যা চিহ্নিত হয়নি বলে হসপিটাল সংশ্লিষ্টরা স্বজনদের জানান।
কিন্তু তাছলিমা বেগমের দম বন্ধ (শ^াস-প্রশ^াস বন্ধ) হয়ে আসায় তার পরিবারের লোকজন জরুরিভিত্তিতে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর গলা থেকে একটি ক্যাপ বের করা হয়। যেই ক্যাপটি তাঁর দাঁতে লাগানো ছিল। ওইদিন তিনি দুপুরে যখন ঘুমিয়েছিলেন তখন ঘুমন্ত অবস্থায় দাঁতের ক্যাপটি তার গলার ভিতরে চলে যায়।
এ বিষয়ে তাছলিমা বেগমের মেয়ে নাছরিন আক্তার রেশমা জানান, ওই দিনে বিকালে মায়ের দম বন্ধ হয়ে আসায় তাকে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবে নিয়ে যাই। সাথে আমার খালাতো ভাই (সংবাদকর্মী) সাথে ছিলেন। এসময় হাসপাতালের মায়ের এক্সরে করানো হয়। যার এক্সরে আইডি নং-৩০৩০৫।
তিনি বলেন, এক্সরে করানোর পর হাসপাতালের লোকজন আমাকে ও আমার খালাতে ভাইকে কম্পিউটারে জুম (বড়) এবং প্রিন্ট করে এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, তাঁর (মা) গলায় কোন কিছু আটকানো নেই। এটা ওনার মনের সমস্যা। কিন্তু মায়ের শ^াস-প্রশ^াস বন্ধ হয়ে আসছে। পরে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আমরা মাকে কুমিল্লায় নিয়ে যাই। সেখানে মায়ের গলা থেকে একটি ক্যাপ বের করা হয়। অথচ তাদের ভুল তথ্যে আমার মা মরতে বসেছিল!
এ বিষয়ে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের চেয়ারম্যান ডা. রাইসুল ইসলাম রুবেলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই দিন তারা (তাছলিমা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা) এক্স-রে করানোর পর রিপোর্ট না নিয়ে শুধুমাত্র এক্স-রে কপিটি নিয়ে চলে যায়। এমনকি ওই এক্স-রে কপিটি আমাকে বা হসপিটালের কোনো চিকিৎসককে তারা দেখায়নি।
এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেহেতু তারা এক্স-রে রিপোর্ট নেয়নি, কোন চিকিৎসককে এক্স-রে দেখায়নি এবং চিকিৎসকের সেবা নেয়নি, তাহলে ভুল রিপোর্ট হলো কিভাবে..?
এমন প্রশ্নের জবাব দিয়ে রোগীর সাথে থাকা স্বজন শাখাওয়াত হোসেন শামীম বলেন, এক্স-রে করানোর পর হাসপাতালের লোকজন এক্স-রে রিপোর্ট হাতে দিয়ে আমাদের কম্পিউটার রুমে নিয়ে যায়। এরপর কম্পিউটারে এক্স-রে জুম করে দেখিয়ে বলে যে রোগীর গলায় কিছু নেই। এটি তার মনের সমস্যা।
তিনি আরো বলেন, অথচ সেসময় দম বন্ধ (শ্বাসরুদ্ধ) হয়ে রোগী ছটফট করছেন। তখন কোন উপায়ন্তর না দেখে আমরা রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং সেখানে তার গলা থেকে একটি দাঁতের ক্যাপ বের করা হয়। এখন গোল্ডেন হাসপাতালের কথা মতো এবং মনের সমস্যা মনে করে যদি আমরা হাজীগঞ্জে রেখে দিতাম, তাহলে হয়তো আমাদের রোগী মারা যেতেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাখাওয়াত হোসেন ও পপুলার বিডিনিউজ নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফেসুবক লাইক পেজে পোস্ট দিলে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের সমালোচনার ঝড় ওঠে। খায়রুল কবির নামের একজন কমেন্টেস্ এ লিখেন ‘এই সব হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া উচিৎ’, আহমেদ আসিফ লিখেন ‘এইসব হাসপাতালের জন্য আজকে অনেক বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারতো’ গাজী মো. বিল্লাল হোসেন লিখেন ‘ওরা কেমন ডা.?’, সোহেল আহমেদ লিখেন, এগুলা হাসপাতাল না এগুলা কশাই খান (কসাইখানা)।
জহির আরফিন লিখেন ‘এসব হাসপাতাল সিলগালা করে দিলে ভালো হবে, জনি আহম্মেদ লিখেন ‘টাকা ইনকামের ধান্দা’, সুমন হাসান লিখেন ‘এগুলো টাকা ইনকাম করার কসাইখানা হাজীগঞ্জ’, আলী আকবর লিখেন হাজীগঞ্জে সবচেয়ে বড় ব্যবসা হাসপাতাল ব্যবসা। সেবার নামে ব্যবসাটাই প্রধান উদ্দেশ্য, শিউলি আক্তার লিখেন ‘খুবই দুঃখজনক ফালতু হাসপাতাল, হান্নান শাহ লিখেন কারিগরি ঘরের পুরানো মিশিনগুলো মনে হয় ফিট করেছে, আতিকুর রহমান লিখেন ‘এরা কসাইখানা খুলে বসেছে’। এভাবে আরো অনেকে নেতিবাচক কমেন্ট করেন।

২১ আগস্ট, ২০২২।