শেষ দিনে প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃংখলাসহ যাবতীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দিনব্যাপী প্রার্থীরা ছিলেন প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত।
সারাদিন প্রার্থীদের মিছিল, পথসভা ও মাইকিংয়ে মুখরিত ছিলো পৌর এলাকা।
নির্বাচনে মেয়র পদে বড় দুই রাজনৈতিক দলের দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আলহাজ আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চু।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে সংরক্ষিত চারটি ওয়ার্ডে ১৫ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২টি ওয়ার্ডে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর দেশের তৃতীয় ধাপে নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে।
তফসিল ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যালেট পেপারের মধ্যে একটানা ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতেই শেষ হয়েছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা। ইতোমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে দু’মেয়র প্রার্থীই শতভাগ আশাবাদী।
প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছিলো এই নিবাচনীয় প্রচারণা। ৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীরা পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পৌরবাসীর দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।
এই নির্বাচন নিয়ে সববয়সের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সরগরম ছিলো তৃণমূলের রাজনীতিও। শুধু পৌরসভা এলাকা নয়, হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করেছেন এবং অংশ নিয়েছেন গণসংযোগে।
এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রিয় ও জেলা যুবলীগ, জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ নৌকা প্রতীকের সমর্থনে গণসংযোগ, পথসভা ও নির্বাচনী কর্মীসভায় অংশ নিয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিসহ কেন্দ্রিয় ওলামা দলের সদস্য সচিব গণসংযোগ, পথসভা ও নির্বাচনী কর্মীসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে প্রশাসন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া একজন মেজরের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং টহলে থাকবে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ টিম। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১২ জন পুলিশ ও ১০ জন আনসার সদস্যসহ নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ থাকবে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার এই নির্বাচনে ৪৫ হাজার ৩৪৮ জন ভোটার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আবার ২০টি কেন্দ্রে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ১২৮টি এবং অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ১৯টি।
এই ২০টি ভোট কেন্দ্রে ২০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১২৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২৫৬ জন পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলায় কেন্দ্র প্রতি একজন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১২ জন পুলিশ কনস্টেবল ও ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা মো. ওবায়েদুর রহমান জানান, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রার্থী ও ভোটারসহ পৌরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন ৮২৩ ভোটে জয়লাভ করেন এবং ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি আলহাজ আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চু টানা ১২ বছর মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। এবারের নির্বাচনে ওই দুইজন প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে বর্তমান মেয়র ও সাবেক মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
২৯ জানুয়ারি, ২০২১।
