হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অর্ধ-শতাধিক প্রার্থীর জমজমাট প্রচারণা

৩ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন, আজ তফসিল

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার, পেস্টুনে ছেয়ে গেছে বাজার এলাকা। পত্রিকা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ পর্যন্ত অর্ধ-শতাধিক প্রার্থী তাদের নিজ নিজ প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন। আবার অনেক প্রার্থী ভোটারসহ সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের সাথে সশরীরে কুশল বিনিময় করেছেন।
এতে আগাম প্রচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী ও প্রার্থীর মাঝে। এদিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৯ মে) ৩ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের হাতে দায়িত্ব প্রদান করেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ইকবালুজ্জামান ফারুক, নির্বাচন কমিশনার হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সহকারী অধ্যাপক মো. সেলিম, সদস্য সচিব সাংবাদিক মনিরুজ্জামান বাবলু।
আজ বুধবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে। এর আগে সোমবার (৮ মে) সংবাদকর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সভাপতি আলহাজ আসফাকুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন।
এদিকে এ পর্যন্ত যেসব প্রার্থীরা ব্যানার, পেস্টুন, ফেসবুক, লিফলেট ও তাদের শুভাকাক্সক্ষীদের মাধ্যমে প্রার্থীতার খবর জানান দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৩ জন। তারা হলেন- বর্তমান সভাপতি আলহাজ আসফাকুল আলম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি রোটা. আহসান হাবিব অরুন ও মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার।
সহ-সভাপতি পদে ৩ জন। তারা হলেন- বর্তমান সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান, মো. আবদুল কাদের (কেবিএফ) ও হাজী মো. ওমর ফারুক সর্দার। সাধারণ সম্পাদক পদে ৭ জন। তারা হলেন- বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন, মো. জাকির হোসেন মিন্টু, মো. আলী নেওয়াজ রোমান, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, এবায়েদুর রহমান খোকন বলি, এস.এম আকতার হোসেন ও ডা. মো. ফয়ছল ইসলাম।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন। তারা হলেন- বর্তমান সহ-সাধারণ মো. সাহাব উদ্দিন শাবু, শেখ তোফায়েল আহমেদ ও এমরান হোসেন মুন্সী। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৬ জন। তারা হলেন- হাফেজ মো. আবুল কাশেম, আবু নোমান রিয়াদ, আবু হেনা বাবলু, মো. শহীদুল্লাহ, মো. শরীফ গাজী ও মো. ফয়সল পাটওয়ারী।
কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন। তারা হলেন- বর্তমান কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক হাছান মাহমুদ ও মো. হারুন অর রশিদ। দপ্তর সম্পাদক পদে ৩ জন। তারা হলেন- বর্তমান দপ্তর সম্পাদক মো. আবুল কাশেম মুন্সী, মোর্শেদ আলম ও মো. আরিফুল ইসলাম। প্রচার সম্পাদক পদে ৪ জন। তারা হলেন- বর্তমান প্রচার সম্পাদক মো. ইমামুল হাছান হেলাল, মো. কাউছার আহমেদ, মো. হাবিবুর রহমান আখতার ও মো. বদিউল আলম শাকিল।
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৪ জন। তারা হলেন- মো. মানিক মজুমদার, হাসান পাটওয়ারী, দ্বীন ইসলাম টগর ও মো. সফিকুল ইসলাম। বাণিজ্য সম্পাদক পদে ৩ জন। তারা হলেন- মোশারফ হোসেন টিটু গাজী, মো. আব্দুল মজিদ ও শাহ আলমগীর হোসাইন। শিল্প বিষয়ক সম্পাদক পদে ৩ জন। তারা হলেন- মো. জিসান আহমেদ ছিদ্দিকী, মো. ইউছুফ পাটওয়ারী ও হাফেজ মো. মহসিন।
তবে এখন পর্যন্ত নতুন সৃষ্টিকৃত পদ ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদক’ পদে কোন প্রার্থীর প্রচারণা দেখা যায়নি। এছাড়া ৮টি ওয়ার্ডে কমিশনার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগাম প্রচারণা শুরু করেছেন। এর মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডে মোট ২০জন কমিশনার নির্বাচিত হবেন। এই ২০ জনের মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে ৩ জন (বর্তমান পরিষদে আছেন ২জন), ২নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৩নং ওয়ার্ডে ৩জন, ৪নং ওয়ার্ডে ২জন, ৫নং ওয়ার্ডে ৩জন, ৬নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৭নং ওয়ার্ডে ৩জন (বর্তমান পরিষদে আছেন ৪জন) এবং নতুন সৃষ্টকৃত ওয়ার্ড ৮নং ওয়ার্ডে ২ জন কমিশনার নির্বাচিত হবে।
উল্লেখ্য, ৮ মে সংবাদকর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আলহাজ আসফাকুল আলম চৌধুরৗ ও হায়দার পারভেজ সুজন বলেন, যেহেতু বর্তমান কার্যকরি পরিষদের মেয়াদ ১২ মে শেষ হতে যাচ্ছে। তাই, আগামি ৫ বছরের জন্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য কার্যকরি পরিষদ ইতিমধ্যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা সম্পন্ন, নির্বাচনী ওয়ার্ড ও কমিশনারের পদ পূর্ণগঠণ, সম্পাদকীয় পদ বৃদ্ধিসহ আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৩ জনের ভোটার তালিকা প্রকাশ, ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদক’ নামক একটি পদ বৃদ্ধি করে সম্পাদকীয় ১১ থেকে ১২টি পদ এবং ১টি ওয়ার্ড বৃদ্ধি করে মোট ৮টি ওয়ার্ড করা হয়েছে। এছাড়া ১নং ওয়ার্ডে কমিশনার পদে একজন কমিশনার পদ বৃদ্ধি করে ২ থেকে ৩ জন কমিশনার এবং ৭নং ওয়ার্ডে একজন কমিশনার পদ কমিয়ে ৪ থেকে ৩ কমিশনার পদ রাখা হয়েছে।
যা বর্তমান পদ সংখ্যা থেকে বেড়ে আগামি পরিষদে ২৯ থেকে ৩২ জনের সদস্য হবে। কার্যকরি পরিষদের মেয়াদের বিষয়ে তারা বলেন, যেহেতু আমরা দায়িত্বে রয়েছি এবং নির্বাচন কমিশনও থাকবে। যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা বলেন, বর্তমান মেয়াদ অর্থ্যাৎ ৫ বছর থাকবে, তাহলে ৫ বছরই থাকবে অথবা ২ বছর কমিয়ে পূর্বের মতো ৩ বছরের মতামত আসলে, ৩ বছরই করা হবে। আমরা সকলের সিদ্ধান্তের সাথে একমত।
সভাপতি ও সম্পাদক আরো বলেন, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের লক্ষে আমরা আশা করছি, আগামিকাল (আজ) নির্বাচন কমিশনারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারবো। এরপর নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করবেন এবং তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যারা বিজয়ী হবেন অর্থ্যাৎ যারা আগামি দিনের নেতৃত্বে আসবেন, তাদের শপথগ্রহণ শেষে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা তাদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করবো।

১০ মে, ২০২৩।