হাজীগঞ্জ মডেল হসপিটালে নবজাতকের পা ভাঙ্গার অভিযোগ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে এবার বাচ্চা প্রসবকালীন সময়ে নবজাতকের বাম পা ভাঙ্গার অভিযোগ এনে হাজীগঞ্জ মডেল হসপিটালের আবাসিক দুই চিকিৎসকসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ মিয়া। তিনি পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের হোসেন উদ্দিন হাজি বাড়ির বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) ওই হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ও আবাসিক সার্জন (মেডিসিন, মা-শিশু, গাইনি, প্রসূতি, বন্ধ্যাত্ব ও সার্জারী) ডা. শেখ সাদিয়া আফরিন এবং মেডিকেল অফিসার ও অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. রনি চন্দ্র মজুমদারসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনকে অভিযুক্ত করে হাজীগঞ্জ থানায় এই অভিযোগ দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. ইউসুফ মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠলে গত ১৮ এপ্রিল তাকে হাজীগঞ্জ মডেল হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। এরপর ওইদিন বেলা ৩টার দিকে ডা. শেখ সাদিয়া আফরিন ও ডা. রনি চন্দ্র মজুমদার অজ্ঞাত বিবাদীদের যোগসাজশে তার স্ত্রীর ডেলিভারী (প্রসব) সম্পন্ন করা হয়।
গত ২৬ এপ্রিল নবজাতকের (পুত্র সন্তান) বাম পায়ে সমস্যার খবর পেয়ে এক্সরে করানো হয় এবং রিপোর্টে হাঁটুর উপরের অংশ ভাঙ্গা দেখা যায়। এ সময় মো. ইউসুফ মিয়া তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারেন, ডেলিভারির সময় ভুল করে নবজাতকের বাম পায়ের হাঁটুর উপরের অংশ ধরে টানা-হেচঁড়া করার সময় হাঁড় দুই টুকরো হয়ে যায়।
এ বিষয়ে উল্লেখিত চিকিৎসকদের জানানো হলে কোন সদুত্তোর পাননি মো. ইউসুফ মিয়া এবং নবজাতককে অন্যত্র নিয়ে চিকিৎসা করোনোর চেষ্টা করলে উল্লেখিত চিকিৎসকসহ অজ্ঞাত বিবাদীরা বাঁধা প্রদানসহ হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদানের করার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ডা. রনি চন্দ্র মজুমদারের সাথে সংবাদকর্মীদের কথা হলে তিনি জানান, এ ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, ওই দিন আমাকে ডেকে নেয়া হলে, আমি শুধুমাত্র দেখে চলে আসি।
একই সময়ে ডা. শেখ সাদিয়া আফরিনকে তার চেম্বারে না পাওয়ায় এবং হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে না উল্লেখ করে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ জানান, যেহেতু থানায় অভিযোগ হয়েছে, তাই বিষয়টি আইনীভাবেই দেখা হবে।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মাওলা নাঈম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সময়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজার পরবর্তী সময়ে প্রসূতি ও নবজাতক মারা যাওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এখন হাজীগঞ্জ মডেল হসপিটালের দুইজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নবজাতকের পা ভাঙ্গার অভিযোগ ওঠে।

৩০ এপ্রিল, ২০২৩।