১৮ দিন পর হাজীগঞ্জে অপহৃত স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ২


মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে কৌশলগত পরিকল্পনায় হিন্দুু ধর্মালম্বী অপহৃত এক স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও এক শিক্ষকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনির দিক-নির্দেশনায় এবং তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল বুধবার বিকেলে কুমিল্লা শহর থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত শিক্ষকসহ তার ভগ্নিপতিকে (বোনের স্বামী) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ছাত্রীটি পৌরসভাধীন হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো। আটক শিক্ষক মো. শরিফ হোসেন উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের তারপাল্লা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং সে ওই বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক ছিলেন এবং মনির হোসেন ওই শিক্ষকের ভগ্নিপতি।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে শিক্ষক মো. শরীফ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে পুলিশ তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালায় এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। অবশেষে ঘটনার ১৮ দিন পর ছাত্রীকে উদ্ধার এবং শিক্ষকসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনির দিক-নির্দেশনায় এবং তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষকের ভগ্নিপতি মনির হোসেনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তার (মনির হোসেন) দেয়া তথ্য মতে কুমিল্লা থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার এবং শিক্ষক শরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন-২। এদিকে ছাত্রীকে উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ছাত্রীটির পরিবার।
ছাত্রী উদ্ধার ও শিক্ষকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি জানান, অপহৃত হিন্দু কিশোরী ছাত্রীকে কুমিল্লা থেকে উদ্ধার এবং স্কুল শিক্ষক মো. শরীফ হোসেন ও তার ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম (ছাত্রী) ও আটকদের আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অপহৃতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার পর তার মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।