৭নং ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও উঠোন বৈঠক

পর্যটন ক্ষেত্রে এ ওয়ার্ড হবে পুরো পৌর এলাকার মডেল
……………অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিনব্যাপী ৭নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও উঠোন বৈঠক করেন।
গণসংযোগ ও উঠোন বৈঠকে তিনি বলেন, আমি শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। কর্মী হিসেবে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রার্থী হিসেবে আমি এই প্রথম। আমি অন্যান্যদের মতো ওয়াদা দিয়ে বরখেলাপ করবো না। ঠিক যতটুকু পারবো সেটুকুই বলবো। এই এলাকার মানুষদের যে সকল সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে আমার সর্বাধিক চেষ্টা ও পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তা ঘাট, ড্রেন করা এটা আমার প্রতিশ্রুতির মধ্যে নয়। কারণ পৌরসভার দায়িত্ব পেলে আমি নিজেই বাধ্য থাকবো এই কাজগুলো করার জন্য। এগুলো আপনাদের অধিকার। আমি সে অধিকার নিশ্চিত করবো। অন্যান্য এলাকার চাইতে কিছু ক্ষেত্রে ৭নং ওয়ার্ড পিছিয়ে। নির্বাচিত হওয়ার পর আমার প্রথম কাজ হবে ৭নং ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ আধুনিকভাবে তৈরি করা। পর্যটনের জন্য ৭নং ওয়ার্ডে সম্ভাবনাময় অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। পর্যটনের ক্ষেত্রে ৭নং ওয়ার্ড হবে পুরো পৌর এলাকার মডেল।
তিনি আরো বলেন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যে কয়টা পৌরসভা ছিলো তার মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা অন্যতম। এ পৌরসভার বয়স ১২৪ বছর। তৎকালীন সময়ে এই শহরকে পৌরসভা করার অন্যতম কারণ হচ্ছে এটা পদ্মা মেঘনার মোহনা। নদী বন্দর থাকার কারণে এই শহরের বাণিজ্যিকভাবে বেশ সুনাম রয়েছে। যদিও কালের বিবর্তনে তা হারাতে বসেছে। আমি কথা দিচ্ছি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে আমি বাণিজ্যিক সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবো।
তিনি বলেন, আপনারা একটা আতঙ্কে আছেন। সেটা হলো উচ্ছেদ আতঙ্ক। ইতিপূর্বেও আপনাদের রেলওয়ে জায়গা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে এই এলাকার উন্নয়নের রূপকার সাংসদ আপনাদের সেই আতঙ্ক থেকে রক্ষার জন্য ইতিপূর্বেও কাজ করে গেছেন। যতবারই উচ্ছেদ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে ততবারই তিনি রক্ষার চেষ্টা করে সফল হয়েছেন। আমি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির একজন কর্মী হিসেবে আপনাদেরকে উচ্ছেদ আতঙ্ক থেকে মুক্ত করার জন্য যা যা প্রয়োজন ডা. দীপু মনি আপার সাথে পরামর্শ গ্রহণ করে সে ব্যবস্থাগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সৎ জীবন যাপন করেছি। আমার ৪৭ বছর জীবনে কোন অর্জনের পিছনে দুর্নীতি নেই সেটা আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারি। কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি। আমি নির্বাচিত হলে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবো এটা আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ৭নং ওয়ার্ডের জেটিসি কুলি বাগান এলাকায় গনসংযোগের মাধ্যমে দিনব্যাপী গণসংযোগের কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তিনি জামতলা, নিশি রোড, জিআরপি কলোনী, মাদ্রাসা রোড, টিলা বাড়ী, যমুনা রোড, রেলওয়ে কবরস্থান, ক্লাব রোড, লঞ্চ ঘাট, রেলওয়ে শ্রমিক কলোনী, রেলওয়ে সুইপার কলোনী, কাঁচা কলোনী, জামতলা নিশি কোয়ার্টার পূর্ব, নদীর পাড়ের কান্দি সন্ধ্যা পর্যন্ত গণসংযোগ ও জামতলা, যুমনা রোড, ক্লাব রোড, মাদ্রাসা রোড ও কাঁচা কলোনীতে উঠোন বৈঠক করেন।
উঠোন বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আলম মিল্টন, সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য দেলোয়ার সরকার, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক মাসুদা নূর খান, জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অহিদুর রহমান, জেলা মৎস্যজীবী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহআলম মল্লিক, আ. রহিম গাজী, আবুল কাশেম, তাজুল ইসলাম, নাছির হোসেন, শাহআলম বেপারী, জেলা যুবলীগ সদস্য ইকবাল বেপারী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল হায়দার সংগ্রাম, সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম সুমন ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।