৭ মাস ধরে বলাখাল জে.এন উবি এন্ড কলেজের খেলার মাঠ দখল

খেলাধুলা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এবং রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা!

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মাসব্যাপী মেলার নামে গত ৭ মাস ধরে পৌরসভাধীন বলাখাল জে.এন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কারিগরি কলেজের মাঠ দখলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক কসরতসহ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শিশু-কিশোররা। এতে করে খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্রের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসী এবং ক্রীড়া সংগঠকরা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে স্টলসহ মেলার বিভিন্ন উপকরণ পড়ে আছে এবং মেলার মূল ফটকে লেখা রয়েছে ‘মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপযাপিত (উদযাপিত) মেলা-২০২১ইং। এর পাশে একটি সাঁটানো ব্যানারে লেখা আছে বলাখাল আদর্শ ফ্রেন্ডস্ ক্লাবের আয়োজনে মাসব্যাপী মহান স্বাধীনতা ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মেলা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মেলা আয়োজন জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে প্রাক্তন অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের মজুমদারের (বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন) কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহতাব হোসেন সবুজ।
ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মৌখিত অনুমতি সাপেক্ষে গত ৩ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন অধ্যক্ষ। কিন্তু মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ তীব্র হওয়ায় এবং কঠোর লকাডউনের কারণে মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যে মাঠ ব্যবহারের সময়সীমা পার হয়েও আরো প্রায় ৪ মাস অতিক্রম হয়ে যায়। অর্থাৎ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের পর ৭ মাস পার হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ ৭ মাস পার হলেও মাঠ থেকে মেলার স্টল অপসারণ না করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ও এলাকার শিশু-কিশোরেরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাতের আঁধারে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বিদ্যালয়ের মাঠটি। এছাড়া মেলার স্টল ও বিভিন্ন উপকরণ অরক্ষিত থাকায় দুর্ঘটনার আশংকাও করছেন স্থানীয়রা। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ হিসেবে স্থানীয় শিশু, কিশোর ও যুবকদের পদচারণায় নিয়মিত মাঠটি মুখর থাকতো। কিন্তু মেলার নামে দীর্ঘদিন মাঠটি দখলে থাকায় সেটি আর হচ্ছে না। মেলার স্থানটিতে রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী অনিক রহমান ও ইশতিয়াক হোসেন রুপক জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু মেলার নামে বিদ্যালয়ের মাঠটি বেদখলে থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না। তারা দ্রুত মাঠ থেকে মেলার স্টল অপসারণের দাবি জানান।
বলাখাল আদর্শ ফ্রেন্ডস্ ক্লাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মূলত মেলার আয়োজন করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন সবুজ। সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার কথা বিবেচনা করে আমাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু মেলার সময়সীমা পার হয়ে গেছে, তাই মেলার স্টলসহ উপকরণগুলো সরিয়ে নেয়া উচিত।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহতাব হোসেন সবুজের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আগামি বৃহস্পতিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসকের অনুমতি পাওয়া না গেলে শুক্রবার থেকে মেলার স্টল ও অন্যান্য উপকরণগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খোদেজা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মেলার স্টলসহ আনুসাঙ্গিক উপকরণ অপসারণের জন্য মেলা কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার মৌখিক বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সেটি না করায় গত ২৪ আগস্ট লিখিতভাবে প্রথম নোটিশ দেয়া হয়। তারা নোটিশ হাতে পেয়ে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে মাঠ খালি করার কথা জানায়। কিন্তু যথাসময়ে মাঠ খালি না করায় ১ অক্টোবর দ্বিতীয় নোটিশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় নোটিশ পাওয়ার পর তারা (মেলা কর্তৃপক্ষ) আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছে, আগামি শুক্রবারের মধ্যে মাঠ খালি করে দিবে। এরপরও যদি মাঠ খালি না করে তাহলে ম্যানেজিং কমিটির পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, মাঠ থেকে মেলার স্টল ও অন্যান্য উপকরণ অপসারণের জন্য মেলা কর্তৃপক্ষকে অধ্যক্ষের মাধ্যমে নোটিশ দেয়া হয়েছে। যদি তারা না সরায়, পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৪ অক্টোবর, ২০২১।