প্রধান অতিথি ডা. দীপু মনি এমপি, উদ্বোধক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল
স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুর জেলাবাসীর কাক্সিক্ষত মিলনমেলা ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা ২০১৭’ আগামি ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবসের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চাঁদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ‘হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে’ প্রতি বছরের মতো এবারো এই বিজয় মেলা হচ্ছে। ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম এমএ ওয়াদুদের সুযোগ্য কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
মেলার উদ্বোধন করবেন চাঁদপুরের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, সাবেক এমপিএ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম আবদুল করিম পাটওয়ারীর জ্যেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল পিএএ, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদপুরাসীকে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি এমএ ওয়াদুদ, উদ্যাপন পরিষদ-২০১৭-এর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান ও মহাসচিব হারুন আল রশীদ এবং স্টিয়ারিং কমিটির সম্পাদক অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরণ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অবিকৃত অবস্থায় তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯৯২ সাল থেকে চাঁদপুরে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হয়। শুরুর দিকে এটি ৮ দিনব্যাপী হলেও মেলায় প্রতিদিন সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর সময়সীমা বাড়তে থাকে। প্রায় দেড় যুগ ধরে এই বিজয় মেলা মাসব্যাপী হয়ে আসছে। ১ ডিসেম্বর থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হয়। তবে ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবসে (মহান মুক্তিযুদ্ধের এদিন চাঁদপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে থাকে।
১৯৯২ সালে চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার যাত্রা শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর গৌরবের সাথে উদ্যাপিত হয়ে আসা এ মেলার এবার ২৬ তম বছর। প্রতি বছর এই বিজয় মেলা চাঁদপুরের সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হয় চট্টগ্রামে। এরপর যদি দ্বিতীয় কোনো জেলায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে থাকে তাহলে সেটি চাঁদপুর। আর শুরু থেকেই চাঁদপুরের এ মেলাটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং সব ধরনের অনৈতিক ও অশ্লীল কর্মকা- থেকে মুক্ত রয়েছে। এই মেলার স্টিয়ারিং কমিটি ও উদ্যাপন পরিষদসহ সব উপ-কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী চাঁদপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্পৃক্ত রয়েছেন। এজন্যে এ মেলাটি সার্বজনীনতা পেয়েছে। আগামিতেও তা অক্ষুণœ থাকবে বলে চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা।