চাঁদপুরের আলোচিত ফেন্সি হত্যা

অ্যাড. জহির জামিনে মুক্ত

  • স্টাফ রিপোর্টার
    চাঁদপুর শহরের ষোলঘর পাকা মসজিদ এলাকার আলোচিত অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সি হত্যা মামলার প্রধান আসামি অ্যাড. মো. জহিরুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। ওই শুনানিতে বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. সরোয়ার আলম তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাড. জহিরের ছোট ভাই মো. ফখরুল ইসলাম রিপন মিজি।
    সন্ধ্যার পর জেলারের কাছে জামিনের কাগজ না পৌঁছায় অ্যাড. জহিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেল থেকে মুক্ত হয়ে বের হয়ে আসেন। হাজত থেকে বের হওয়ার পর তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাড. মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের স্মরণ সভায় উপস্থিত হন। এখানে এসে আইনজীবীদের সাথে তিনি কুশল বিনিময় করেন। সেখান থেকে তিনি শিলন্দিয়া গ্রামের তার পৈত্রিক ভিটে মিজি বাড়িতে মায়ের সাথে দেখা করতে যান।
    অ্যাড. জহিরুল ইসলামের জামিন শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. কাজী হাবিবুর রহমান, অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাড. শাহআলম-২, অ্যাড. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া-২, অ্যাড. নজরুল ইসলাম খোকনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
    উল্লেখ্য, অ্যাড. জহিরুল ইসলাম শাহীন সুলতানা ফেন্সি ছাড়াও জুলেখা বেগম নামে আরও এক নারীকে বিবাহ করেন। এই নিয়েই তার প্রথম স্ত্রী বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদগঞ্জের গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সির সাথে প্রায়ই বাক-বিতন্ডা হত। গত ৪ জুন রাতে চাঁদপুর শহরের ষোলঘর পাকা মসজিদ এলাকার নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন। এ খুনের ঘটনায় ওই রাতেই ফেন্সির স্বামী চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়।
    এছাড়া একই রাতে অ্যাড. জহিরের দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমকে ডিবি পুলিশ আটক করে। ঘটনার পর ৫ জুন নিহত ফেন্সির ভাই মো. ফোরকান উদ্দিন খান বাদী হয়ে অ্যাড. জহির ও জুলেখা বেগমসহ চারজনকে আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেদিন থেকেই অ্যাড. জহির ও জুলেখা দম্পতি জেলহাজতে রয়েছেন।
    ২৮ নভেম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. সরোয়ার আলম সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে অ্যাড. জহিরুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।