
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্বল্পদৈর্ঘ্য যাত্রাপালা নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় ৬৪ জেলার মতো চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির রেপাটরি নাট্যদলের পরিবেশনায় যাত্রাপালা আলোমতি ও প্রেমকুমার মঞ্চস্থ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশে সংস্কৃতির যে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে সেক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আরো করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের যদি উন্নতি করা না হয় তাহলে আমাদের দেশের যুব সমাজ মরণব্যাধী মাদকে আসক্ত হয়ে যাবে। যারা সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে জড়িত থাকে তাহলে যুব সমাজ আর বিপথগামী হবে না। যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে জাগিয়ে রাখতে সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে ভূমিকা রাখছে। যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখলে আমাদের দেশের সংস্কৃতিকর উন্নয়ন ঘটবে। এই শিল্পের আরও সমৃদ্ধ ঘটবে। আমাদের দেশের সংস্কৃতিকে যারা ধরে রেখেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। তেমনি একটি সংস্কৃতির উর্বর জেলা চাঁদপুর। আমরা চাঁদপুরের সংস্কৃতির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করতে পারছি।
জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মো. আয়াজ মাবুদের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য রূপালী চম্পক।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি তপন সরকার, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের সদস্য সচিব ইয়াহিয়া কিরন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার ও চতুরঙ্গের মহাসচিব হারুন আল রশীদ, বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, বর্ণমালা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, ডা. পীযুষ কান্তি বড়–য়া প্রমুখ।
আলোমতি ও প্রেমকুমার যাত্রাপালার মূল প্রতিপাদ্য হলো ধনী গরীবের বৈষম্য। নাটক সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের অন্যতম অনুসঙ্গ। বাঙালি সংস্কৃতির চিত্র ঐতিহ্যের মেলবন্ধন যে মাধ্যমটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল তাহলো বাংলা নাটক। আর যাত্রাপালা তার প্রধান একটি মাধ্যম। তৃণমূল পর্যায়ে থেকে সর্বক্ষেত্রে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রসারের লক্ষ্যে এবং হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি পুনরায় উজ্জীবিত করার জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের ৬৪ জেলায় স্বল্পদৈর্ঘ্য দেশীয় যাত্রাপালা নির্মাণ করছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনায় কালজয়ী যাত্রাপালা আলোমতি ও প্রেমকুমার।
আলোমতি ও প্রেমকুমার তেমনি একটি গ্রাম বাংলার প্রেমগাথা যাত্রাপালা। এই যাত্রাপালার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে সভার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। প্রেম ও ভালোবাসার টানে ধনী গরীবের মধ্যে যে, বিবাদ বিরোধ সৃষ্টি তার একটি নিদর্শন এই আলোমতি ও প্রেমকুমার যাত্রাপালা।
নাটকটির প্রযোজনায় ও উপদেষ্টা ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য শহীদ পাটওয়ারী, রূপালী চম্পক ও অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন। সার্বিক সমন্বয়কারী ছিলেন চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মো. আয়াজ মাবুদ।
আলোমতি ও প্রেমকুমার যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন মো. হারুন রশিদ ডাক্তার, রাজিব দাস, প্রনয় মন্ডল, গোবিন্দ মন্ডল, আসমা আক্তার, সপ্তমী দত্ত, পরিমল দাস নুপুর, ধ্রুব দেবনাথ ও সুশান্ত সাহা। যন্ত্র সংগীতে ছিলেন অজয় চক্রবর্তী, মিজানুর রহমান, গোলাম হোসেন, রশীদ চৌধুরী ও জগদীশ দাস। আলোক পরিকল্পনা ও আবহ সংগীতে ছিলেন কার্তিক সরকার, মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন জাকারিয়া বতু ও আজিজুল হাকিম। যাত্রাপালার নির্দেশনায় ছিলেন গোবিন্দ মন্ডল।
