চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে ধস, পুরাণবাজারে ৭ বসতঘর বিলীন


এস এম সোহেল
চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার অংশে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পুরাণবাজার হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স গেটের সামনের স্থান দিয়ে হঠাৎ শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে পরে। মুহূর্তের মধ্যে হৃদয় সাহা, সমর সাহা, মরণ সাহা ও দীপক সাহার বাড়িসহ ৭টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে হরিসভা রাস্তাসহ আশপাশের অনেকটা এলাকাজুড়ে বড় ধরনের ফাঁটল দেখা দিয়েছে।
হুমকির মধ্যে রয়েছে ঐ এলাকার অন্তঃত অর্ধশতাধিক বসতঘরসহ লোকনাথ মন্দির ও হরিসভা মন্দিরসহ অনেক দোকানপাট। রাতের মধ্যেই বহু স্থাপনা নদীতে চলে যাবার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থল ছুটে যান পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষসহ অন্যান্যরা।
এলাকাবাসী জানান, দরিদ্র ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওই এলাকাটি গত কয়েক বছর ধরেই ভাঙনের হুমকির মুখে ছিল। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স গেটের সামনের স্থান দিয়ে হঠাৎ শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে পরে। ইতোমধ্যে ঐ এলাকার প্রায় ৩শ’ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় তীর এলাকার অন্তঃত ৭টি বসতঘরও তলিয়ে গেছে। হঠাৎ ভাঙনের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র সরানোর সময়টুকুও পাননি। রাতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পার্শ¦বর্তী হরিসভা মন্দিরে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর লাখ-লাখ টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধে সংস্কার করা হয়। বাঁধের সংস্কার কাজ ঠিকমতো হলে এ ভাঙন দেখা দিতো না। তারা জরুরিভিত্তিতে এ ভাঙনরোধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

৪ আগস্ট, ২০১৯।