
কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিবো
স্টাফ রিপোর্টার
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ভারতবর্ষ যখন স্বাধীন হয় তখন ব্রিটিশ সরকার নিয়ম করে দিয়েছিল কাশ্মীর একটি স্বাতন্ত্র্য দেশ, এখানকার জনগণ সর্বদিক থেকে স্বাধীন। এমনকি এখানে কেউ জমি-জমা ক্রয়, বহিরাগতরা নাগরিকত্বও নিতে পারবে না। কিন্তু মোদি সরকার ৩৭০ ধারা পরিবর্তন করে নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ভারতের সংবিধানের ২-এর ক-খ ধারায় উল্লেখ আছে, কোন দেশকে কেন্দ্রিয় সরকারের অধীনে নিতে হলে প্রেসিডেন্ট অর্ডিনেন্স জারি করবে, এবং কাশ্মীরের জনগণের মতামত নিবে। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কাশ্মীর সঙ্কট শুধু কাশ্মীরেরই নয়, এ সঙ্কট বাংলাদেশেরও। এজন্য বাংলাদেশের জনগণকে প্রতিবাদমুখর হতে হবে। পাকিস্তানীরা যেভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, অনুরূপভাবে কাশ্মীরীদের অধিকারও মোদি সরকার কেড়ে নিয়েছে। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ এমনকি ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে।
তিনি বলেন, আমরা ভারতবিরোধী নই, ভারতের নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের বিরোধী। ভারত প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ হতে পারে কিন্তু অভিভাবক হতে পারে না। মোদির এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বস্তরের জনগণ এবং বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, মোদির এই নীতি ভারতের গণতন্ত্রকে গলা কাটার শামিল এবং এতে করে ভারতই টুকরো টুকরো হয়ে হবে। মোদি মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। কাশ্মীর সাতচলি¬শের পর থেকে অগ্নিগর্ভ। বারবার রক্ত ঝরছে সাধারণ মানুষের। কাশ্মীরের আপামর জনতার মতামতকে উপেক্ষা করে ভারতের সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৩টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরীদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে শহরের শপথ চত্বরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা যুব আন্দোলন সভাপতি মাও. হেলাল আহমাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী কেএম ইয়াসিন রাশেদসানী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাও. গাজী মুহাম্মাদ হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাও. বেলাল হোসাইন রাজী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামাল গাজী সোহাগ, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ রিয়াজুর রহমান, শ্রমিক আন্দোলন জেলা সভাপতি মাও. আফসার উদ্দিন, ইশাছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, মাও. নূরুদ্দীন, মাও. রেদওয়ানুল করীম রাকিব, মুফতী ফেরদাউস আল আজাদ, মাও. আতাউল্লাহ মহসিন, গাজী মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মুহাম্মদ আবুল বাশার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তরা বলেন, ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই ভূখণ্ড নিয়ে আজ ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার ভারতের কাছে বাংলাদেশের বি-বাড়িয়া-সিলেট অঞ্চলের জমি বিক্রি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছ। সরকারের মনে রাখা প্রয়োজন বাংলাদেশের জনগণের দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতে এদেশের এক ইঞ্চি মাটি বিক্রি করতে দিবে না ইনশাআল্লাহ।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিপণীবাগ জেলা অফিসের সামনে এসে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষে করা হয়।
১০ আগস্ট, ২০১৯।
