চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন


স্টাফ রিপোর্টার
প্রস্তাবিত নীতিমালা পুনর্বিবেচনা ও ২ বছরের ইন্টারশীপের প্রস্তাবনা বাতিলের জন্য চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা শহরের শপথ চত্বর এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. মাসুম বিল্লাহ ফিরোজ, সাখাওয়াত হোসেন রাহি, নাকিবুল হাসান, মিজানুর রহমান, শাহাদাত হোসাইন, সাফায়েত সাজিদ, সাবরিনা তাবাচ্ছুক ফারিন, সানজিদা শারমিন লিজা, নাহিমা আক্তার, অয়ন্ত রাব্বানি, লামিয়া নওরিন, ফাতেমা আক্তার, সৃজিতা সরকার প্রজ্ঞা, শাহানারা সৌদ মোমো, মেঘনা দে, জান্নাতুল ফেরদৌস মিম, ফারজানা আক্তার, আরদিন জাহান ও মুজাহিদুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের দাবি- বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত কারিকুলাম ফর আন্ডার গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ-২০১২ অনুযায়ী আমরা ৫ বছর মেয়াদী এমবিবিএস কোর্স ও এক বছর মেয়াদী রোটারী ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের জন্য ভর্তি হয়েছি। চলতি বছরে ৭ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রস্তাবিত উল্লেখিত নীতিমালা অনুযায়ী ২ বছরের ইন্টার্নশিপ নানাবিধ বিষয়ে মতামত আহ্বায়ক করে। আমরা এ প্রস্তাবিত নীতিমালা পুনর্বিবেচনা ও ২ বছরের ইন্টার্নশিপের প্রস্তাবনা বাতিলের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কারণ, ভর্তির সময় আমরা ৫ বছর মেয়াদী এমবিবিএস কোর্স ও ১ বছর মেয়াদী রোটারী ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে অবগত হয়ে ভর্তি হই। কোর্স চলাকালে ২ বছর ইন্টার্নশিপের প্রস্তাবনা আমাদের প্রতি সুবিবেচনার প্রসূত বিষয় নয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২ বছরের ইন্টার্নশিপ শেষে একজন চিকিৎসক এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করবে। অন্য আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন কোর্সের শিক্ষার্থীরা যেথায় ৪ বছরের ডিগ্রি অর্জন করছে সেথায় একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ৭ বছর তার আন্ডারগ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করে। বিষয়টি শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার পরিপন্থী। মেডিকেল কলেজ ইন্টার্নশিপ অবস্থায় সিএ রেজিস্ট্রার ও অধ্যাপক শিক্ষকমন্ডলীর সরকারি তত্ত্বাবধানে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক একই সাথে শিক্ষা গ্রহণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে উপযুক্ত চিকিৎসক ও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষানবিস চিকিৎসক বরাবরে মতো অসহায়ত্ব উপলব্ধি করবেন ও হুমকির সম্মুখীন হবেন। মেডিকেল কলেজ চিকিৎসা সেবা প্রদানকালে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী কর্তৃক অপমান-অপদস্ত ও লাঞ্চনার শিকার হন। উপজেলা পর্যায়ে যা ঘটার সম্ভাবনা আরো কয়েকগুণ বেশি। সিনিয়র মেডিকেল অফিসাররা যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আবাসন ব্যবস্থার সুবিধা পান না সেক্ষেত্রে একজন নবীন শিক্ষানবিস চিকিৎসকের জন্য সে পরিস্থিতি হয়ে উঠবে আরো দুর্বিষহ। একজন নারী শিক্ষার্থী ছাত্র অবস্থায় ও ইন্টার্ন চিকিৎসক থাকাবস্থায় বিভিন্ন সময় স্থানীয় বখাটে কর্তৃক অশালীন আচরণ ও হয়রানীর শিকার হন। অস্থায়ী পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ে একজন নারী চিকিৎসকের আরো বেশি অনানুকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রতি বছর সরকারিভাবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ হতে পারে যুগোপযোগী পদক্ষেপ। ২ বছর ইন্টার্নশীপের মাধ্যমে ১জন শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের অংশগ্রহণমূলক পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে আরো ১ বছর পিছিয়ে পড়বে। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর আমরা স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রস্তাবিত নীতিমালার খসড়া সংশোধন ও ২ বছরের ইন্টার্নশীপের প্রস্তাবনা বাতিলের দাবি করছি। একই সাথে ইন্টার্নশীপ ভাতা ১৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণের একান্ত আবেদন জানাচ্ছি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।