ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কান্তি সরকার তার ফেসবুকে গত রোববার ইসলাম ধর্মের ইতিহাস, হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) কে নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রদান করায় উত্তপ্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় মুসলিম জনতা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা তার বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে জনতাকে শান্ত করে।
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কান্তি সরকার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে গত রোববার রাতে মুসলমানদের ইসলাম ধর্মের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতি এবং হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীর প্রথম মানব নয় বলে লিখেন। তারা হিন্দু ধর্মের মনুদের বংশের অনুসারী এবং আদম (আ.) সুন্নত করেনি। সেই হিসেবে আদম (আ.) হিন্দুই ছিলেন। তার মতে, কেউ কেউ আদমকে মুসলিম দাবি করার জন্য তার নামের আগে হযরত শব্দ যুক্ত করেন। যদিও কোরআনে তার নামের আগে কোথাও হযরত নেই। সেই হিসেবে আদম ও হাওয়াকে মুসলিম হিসেবে দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না। আদম ও হাওয়া হলেন মনুদের বংশধর। সেই হিসেবে মনু ও শতরূপা হলেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ। এমন তথ্য দিয়ে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গতকাল সোমবার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মুসলিম জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সকালে বিপ্লব কান্তি সরকার স্কুলে উপস্থিত হলে স্থানীয় জনতা স্কুল ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ ঘটনায় বিপ্লব কান্তি বলেন, তার ফেসবুক কে বা কারা হ্যাক করে এই স্ট্যাটাস প্রদান করে। হ্যাক করার বিষয়ে সে থানায় জিডি করেছে।
ক্ষুব্ধ জনতা আরো জানান, বিপ্লব কান্তি সরকার অপরাধ করেছে এমন টের পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং থানায় জিডি করেছেন। ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করাসহ আদম ও হাওয়া (আ.) কে নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রকাশ করায় তাকে কঠিন বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ও মসজিদের ইমামসহ নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বসে পরিস্থিতি শান্ত করি। তদন্ত করে অবশ্যই দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতা আফরিন জানান, এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন আমাদের জানালে উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। বিপ্লব কান্তির ফেসবুক হ্যাক হয়েছে কি-না তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রকিব জানান, বিপ্লব কান্তি তার ফেসবুক হ্যাক হয়েছে বলে থানায় জিডি করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে অবশ্যই দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘটনাস্থলের জনগণও বিপ্লব কান্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন জানান, সকালে বিপ্লব কান্তি সরকার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে স্থানীয় জনতা তাকে ঘিরে বিদ্যালয়ে ঘেরাও করে ফেলে এবং তার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে সে আমাকে জানায় তার ফেসবুক হ্যাক হয়েছে এবং কে বা কারা এই স্ট্যাটাসটি দেয়। পরে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে।
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।