চাঁদপুরে ইলিশ জেলেদের নৌকা নিবন্ধন শুরু


স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় এবং সংশ্লিষ্ট জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশ মাছ শিকারী জেলেদের নৌকার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। মতলব উত্তরে উপজেলা প্রশাসন, এনহ্যান্সড কোস্টার ফিশারিজ ইন বাংলাদেশ (ইকোফিশ) প্রকল্প ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে জেলেদের নৌকা নিবন্ধন করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ইলিশ শিকারী জেলেদের নৌকা নিবন্ধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, আমরা সরকারের কাছে চাঁদপুর জেলার জেলেদের নৌকা নিবন্ধনের সুপারিশ করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষামূলক হিসেবে মতলব উত্তর উপজেলায় জেলেদের নৌকা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে সফলতা পেলে জেলার অন্যান্য উপজেলার জেলেদের নৌকা নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এরপর সরকার যদি চায় তাহলে সারাদেশের জেলেদের নৌকা নিবন্ধন করতে পারে।
ইকোফিশ প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত রোববার উপজেলার বাবু বাজার, ষাটনল ইউনিয়নের আওতায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরায় নিয়োজিত নৌকাগুলোর আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এখানে ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত এমন ১শ’ নৌকা নিবন্ধন করা হবে।
তিনি বলেন, ইলিশ জেলেদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প। জেলেদের নৌকাগুলো নিবন্ধিত হলে কোন নৌকা কি ধরনের জাল ব্যবহার করছে এবং কি কার্যক্রম করছে তা মনিটরিং করা অনেকটাই সহজ হবে। এছাড়া ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারি আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে জেলেদের সচেতনও করা হচ্ছে। এছাড়া মৎস্যজীবী পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যদের সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাস-মুরগি, গবাদী পশু পালন, শাকশবজি চাষসহ বিভিন্ন কাজে আমরা সহযোগিতা করছি। তাই মা ইলিশ রক্ষা এবং জাটকা শিকার বন্ধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
নৌকা নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং আমাদের গর্ব। এই সম্পদের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন টেকসই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। আমারা জানি, প্রকৃত মৎস্যজীদের তালিকা তৈরি হয়েছে। হালনাগাদও করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাছ আহরণের কাজে নিয়োজিত নৌকাসমূহের নিবন্ধন করা হচ্ছে। আমি আশা করি, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ আহরণে জড়িত সকল নৌকা নিবন্ধের আওতায় আসবে এবং আমরা সত্যিকার অর্থেই আমরা একটি টেকসই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারব। নদী সবার, দায়িত্বও সবার।
তিনি সব মৎস্যজীবী, আড়ৎদার, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ইকোফিশ প্রকল্প’র সাইট অফিসার মো. তৌফিকুর রহমান ও ওয়াল্ড ফিশ বাংলাদেশের রিসার্স এ্যাসোসিয়েট কিংকর চন্দ্র সাহা বলেন, ইলিশ সম্পদের সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সহ-ব্যবস্থাপনার আলোকে সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষকে নিয়ে ওয়ার্ল্ড ফিশ-বাংলাদেশ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ইকোফিশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি উপজেলা ইলিশ কো-ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের নৌকা নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে একটি যুগান্তকারী কাজের সূচনা হলো। তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ইউএসএইড’র সহযোগিতায় ইকোফিশ প্রকল্প কর্তৃক কর্ম এলাকায় মৎস্যজীবিদের মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ, নদীর জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা, বিকল্প জীবিকায়ন এবং সংগঠনিক কার্যক্রম চলমান আছে।

০৪ সেপ্টেম্বর,২০১৯।