নারায়ন রবিদাস
বাবা-মা ও মাদকাসক্ত ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার ফরিদগঞ্জ থানায় জিডি করে এক কিশোরী। শুধু তাই নয়, তাদের হাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চায় সে। পরে কিশোরীর জিডির ভিত্তিতে পুলিশ চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ও ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ও কিশোরীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিরাপদ স্থান হিসাবে গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়িস্থ কিশোরীদের জন্য নির্মিত সেফ হোমকে নিজের ঠিকানা হিসাবে খুঁজে পেলো। সে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১নং চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের বসির উল্লা ও মানছুরা বেগম দম্পত্তির দত্তক সন্তান।
জানা গেছে, ৩ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ থানায় ঐ কিশোরীকে দত্তক নেয়া বাবা বসির উল্লা, মা মানছুরা বেগম ও মাদকাসক্ত ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় জিডি করে ঐ কিশোরী। শুধু তাই নয়, দত্তক নেয়া বাবা-মা ও মাদকাসক্ত ভাই রুবেল জোরপূর্বক স্থানীয় কিছু যুবকের বিরুদ্ধে একটি সাজানো ধর্ষণের ঘটনা আদালতে বলতে বাধ্য করছে এমন অভিযোগও তুলে ঐ জিডিতে। থানায় দায়েরকৃত কিশোরীর জিডির ভিত্তিতে পুলিশ চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়িস্থ কিশোরীদের জন্য নির্মিত সেফ হোমে পাঠায়। অপরদিকে এর আগে ওই কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ করে তার পালিত মা মানছুরা বেগম ২৪ আগস্ট ফরিদগঞ্জ থানায় এবং পরবর্তীতে তার পালিত বাবা বসির উল্ল্যা ২৯ আগস্ট চাঁদপুর আদালতে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করে একটি সাজানো মামলা দায়ের করে। এসব ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ওই কিশোরী।
থানায় দায়েরকৃত দু’টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অহিদুল ইসলাম জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের আলোনিয়া গ্রামে গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় বসির উল্ল্যার কিশোরী মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ২৪ আগস্ট থানায় মামলা দায়ের করে ওই কিশোরীর মা মানছুরা বেগম। এ ঘটনায় পুলিশ জসিম ঢালী ও আয়াত উল্ল্যা নামে দু’জনকে আটক করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে। এরপর কিশোরীর দত্তক বাবা বসির উল্ল্যা ২৯ আগস্ট চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে জসিম ঢালী, হান্নান ওরফে হানু ও ওসমান বেপারী নামে তিনজনকে অভিযুক্ত করে তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে উল্লেখ করে আরেকটি সাজানো মামলা দায়ের করে। আদালত পরবর্তীতে ফরিদগঞ্জ থানাকে এফআইআর হিসাবে রেকর্ডভুক্ত করে তদন্ত করার নির্দেশনা দেয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরীকে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার জন্য আদালতে হাজির করেন। ২২ ধারায় জবানবন্দি সম্পন্নের পর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নিলে সে ডাক্তারী পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরবর্তীতে সে গত ৩ সেপ্টেম্বর থানায় তাকে দত্তক নেয়া বাবা-মা ও মাদকাসক্ত ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফরিদগঞ্জ থানায় জিডি করে। জিডিতে সে আরো উল্লেখ করে, তাকে দত্তক নেয়া বাবা-মা ও মাদকাসক্ত ভাই রুবেলসহ সবাই দত্তক বাবার দায়ের করা সাজানো ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত যুবকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তাই, তাকে দত্তক নেয়া বাবা-মা ও ভাইয়ের কাছ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন করে। সেই অনুযায়ী আদালত তাকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব জানান, কিশোরীকে দত্তক নেয়া বাবা-মা ও মাদকাসক্ত ভাইয়ের শারীরিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সে আবেদন করলে সেটিকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করে পরবর্তীতে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে গতকাল বুধবার গাজীপুর জেলার কোনাবাড়িস্থ কিশোরীদের জন্য নির্মিত সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে।
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।