
ইলিশ উৎসব আমার হৃদয় আকৃষ্ট করেছে
……..অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
স্টাফ রিপোর্টার
‘জেগে উঠো মাটির টানে’ এই স্লোগানকে নিয়ে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে ১১তম প্রাণ ফ্রুটিক্স ইলিশ উৎসবের ২য় দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিবাহিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ইলিশ উৎসবের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ৯ম ও ১০ম ইলিশ উৎসবে আমি আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। আমি চাঁদপুরে ২০১৭ সাল থেকে কর্মরত রয়েছি। ইলিশ উৎসব আমার হৃদয়কে আকৃষ্ট করেছে। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে, গুণী ব্যক্তিদের দেখতে পেয়ে। তাই আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব গুণী ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাই। এই অনুষ্ঠানের প্রাণ ও ইলিশ উৎসবের রূপকার হারুন আল রশীদ গুণী মানুষকে দেখতে পেয়েছি। ইলিশ উৎসব প্রাণ ফিরে পেয়েছে। চাঁদপুরের নয় এ উৎসব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উৎসব। এই ইলিশ উৎসবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যারা কাজ করছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, সত্যিকার অর্থে একটি উৎসব প্রাণের উৎসব হতে পারে তবে ইলিশ উৎসবকে না দেখলে বুঝার উপায় নেই। এখানে ইলিশ নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকা- হয়ে থাকে। ইলিশকে জাতীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায় সেটাই এই উৎসবে প্রকাশ পেয়েছে। এই উৎসবটি অচিরেই জাতীয় উৎসবে নেওয়ার জন্য আমরা সবাই চেষ্টা করব। চাঁদপুরের মাটির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা অর্থাৎ আপামর জনতাকে সাথে নিয়ে ইলিশ উৎসবকে জাতীয় উৎসব করার জন্য কাজ করব। এটি যেন জাতীয় উৎসব করা হয়- এই দাবি জানাই। মেঘনা, পদ্মা, ডাকাতিয়া বিধৌত চাঁদপুর। এই উৎসবে শুধু বাংলাদেশের নয় ভারতের নেতৃবর্গ এসেছেন। ইলিশের যে প্রাণ তা উপলব্ধি করার জন্য আপনারা এই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানে আসবেন। চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন ৩৮ বছরে পদার্পণ করেছে। তাদের পথচলায় ইলিশ উৎসব জাতীয় উৎসব করার জন্য যে প্রয়াস চলছে আমরাও সেই প্রয়াসের সাথে ঐকব্যদ্ধ।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই উৎসব শুরু হয়েছে। আমরা ১১ বছর ধরে চতুরঙ্গের মাধ্যমে ইলিশ উৎসব চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা হারুন আল রশীদরে সাথে এই কাজে সম্পৃক্ত রয়েছি। চাঁদপুর মানে জগত বিখ্যাত ব্র্যান্ড। আর সেই ব্র্যান্ড হলো রূপালী ইলিশ। আমরা আশাবাদী একদিন চাঁদপুরের ইলিশ উৎসব জাতীয় উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই উৎসব চালিয়ে যাব। বিত্তের সাথে আমরা বসবাস করি না। চিত্তের সাথে বাস করি। সাংস্কৃতিক উৎসবের মাধ্যমে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন না করার জন্য আমরা আন্দোলন করে যাব।
ইলিশ উৎসবের আহ্বায়ক রোটা. কাজী শাহাদাতের সভাপতিত্বে এবং ইলিশ উৎসবের রূপকার ও চতুরঙ্গের মহাসচিব হারুন-আল-রশীদের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ গিটার শিল্পী হাসানুর রহমান বাচ্চু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কবির আহমেদ, অসিত কুমার, সফিকুর রহমান জুয়েল, ফরহাদ আজিজ, মো. সফিউল্লাহ খোকন, আব্দুর রউফ, অংকন রানা, সোমরঞ্জন চক্রবর্তী, মানিক দেওয়ানসহ আরো অনেকে।
আলোচনা সভা শেষে সুরধ্বনি সংগীত একাডেমির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনিতা নন্দীর পরিচালনায় সংগীত পরিবেশন করে পংকজ দাস, প্রীতম সরকার অর্নব, শতাব্দী রানী, ইফনাতুন নুশাদী, হিমাদ্রি পাল, সানজিদা আলম, সাওছানা জাহান পৃথা, মিথিলা সাহা, গিয়াস উদ্দিন দেওয়ান, আশরাফুল আলম অমি, মেহবুবা শাহরিনা নিহা, তাসফিয়া আক্তার হৃদি, অর্পিতা দাস, পুষ্পিতা দাস, নুসরাত জাহান ¯েœহা, লাবন্য প্রকৃতি, আনিকা মেহজাবিন।
এরপর বাংলাদেশ হাওয়াইন গিটার শিল্পী পরিষদ ঢাকার হাসানুর রহমান বাচ্চুর পরিচালনায় গিটার বাদন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে গিটারের সুরের মুর্চনা তুলেন কবির আহমেদ, অসিত কুমার, সফিকুর রহমান জুয়েল, ফরহাদ আজিজ, মো. সফিউল্লাহ খোকন, আব্দুর রউফ, অংকন রানা, সোমরঞ্জন চক্রবর্তী।
এর আগে বিকেল ৩টায় ক্ষুদে নাচিয়েদের অডিশন পর্ব এবং ইলিশ নিয়ে প্রীতি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল পর্যায়ের বিতর্কে অংশগ্রহণ করে মধুসুদন উচ্চ বিদ্যালয় ও গনি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। কলেজ পর্যায়ের অংশগ্রহণে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে হাইমচর সরকারি কলেজ ও ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসমত আরা শাফি বন্যা।
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।