শাহ আলম খান
বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম বলেছেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমস্যাগুলো কোথায় তা জানতে হবে। আমরা যখন সভা বা অন্য কোথাও অনুষ্ঠান করি তখন নানা প্রশংসা শুনা যায়। আভ্যন্তরীণ যে সমস্যা থাকে তা আর বের হয়ে আসে না। তাই আপনাদের সাথে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান বের করবো। আমরা চাই কমিউনিটি পুলিশিংকে আরো সচল ও শক্তিশালী করতে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শহরের বাবুরহাট পুলিশ লাইন ড্রিল শেডে কমিউনিটি পুলিশের অংশগ্রহণে মাদক, জঙ্গিবাদ, গুজব ও ইভটিজিং বিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের কমিউনিটি পুলিশিং ময়মনসিংহে প্রথম চালু হয়। তারপর আস্তে-আস্তে সর্বত্র চালু হয়। কমিউনিটি পুলিশিং শুধু রাতে পাহারা দেয়ার জন্য নয়। মানুষের সেবা দেয়া এবং সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করাই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল কাজ। সে কাজ করতে ব্যর্থ হলে তখন পুলিশকে জানাতে হবে।
ডিআইজি বলেন, একসময় মফস্বলে পুলিশ গেলে সাধারণ জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন। এছাড়া নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। এ ধরনের বিষয়গুলো লক্ষ্য করেই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম চালু করা হয়। আজ চাঁদপুরে প্রায় ২২ হাজার সদস্য কমিউনিটি পুলিশি য়ের সাথে জড়িত রয়েছে। কিন্তু কতজন সাধারণ মানুষ জানেন যে তারা এই কমিটিতে যুক্ত আছেন। তাদের সবাইকে এই কমিটির সদস্যের বিষয়ে জানাতে হবে। যদি তারা না জানে তাহলে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সফল হবে না।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশে জঙ্গি পুরোপুরি নির্মূল না হলেও প্রায় ৯৮% নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। আর এই নিয়ন্ত্রণে আসতে পেরেছে আপনাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে।
ডিআইজি সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সাধারণ জনগণের সাথে স¤পৃক্ত থাকবেন। কারণ, তাঁদের সাথে যত বেশি সম্পৃক্ত থাকবেন তত বেশি তথ্য পাবেন, সমাজের ভালোর জন্য।
তিনি সুধী সমাজের উদ্দেশে বলেন, আপনারাও আমাদের তথ্য দিবেন। আপনাদের দেয়া তথ্য আমাদের এবং দেশের জন্য অনেক বেশি উপকার হবে। আমাদের তথ্য দেয়াও আপনাদের দায়িত্ব। আর একটা কথা মনে রাখবেন, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে আমরা আপনাদের সেবক। আমাদের কাছ থেকে আপনারা আপনাদের কাজ ষোলআনা আদায় করে নিবেন।
ডিআইজি বলেন, মতলব উত্তরের নদীপথে মাদক ব্যবসা ও ডাকাতি থেকে মুক্ত করতে নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে আজ থেকেই এর কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার)। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, এনএসআই’র যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ডা. শহীদুল্লাহ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, সাহিত্য একাডেমীর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, সাংগঠনিক সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ রায় প্রমুখ।
এসময় ডিআইজি’র সাথে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি পুলিশিং পৌর কমিটির সভাপতি বাবুল শেখ, মতলব উত্তর উপজেলার সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, কচুয়া উপজেলার প্রানোধন দেব, ফরিদগঞ্জ উপজেলার মো. হেলাল উদ্দিন, হাজিগঞ্জ উপজেলার আশফাক উল আলম চৌধুরী, শাহরাস্তি উপজেলার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল, রমেশ বনিক, পুনাক’র অধ্যক্ষ শিপ্রা দাস, হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রধান মৌসুমী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, চাঁদপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হারুনুর রশিদ, পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রবসহ জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুস ছালাম ও গীতা পাঠ করেন পার্শ্বনাথ দাস।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে ………ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক
