সেদিন বেশি দূরে নয় যে গণফোরাম দেশের নেতৃত্বে দেবে
…………ড. রেজা কিবরিয়া

শাহ আলম খান
‘গণতন্ত্র উদ্ধারে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে গণফোরাম চাঁদপুর জেলা পরিষদ আয়োজিত কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া।
তিনি বক্তব্যে বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয় যে সময়ে গণফোরাম দেশের নেতৃত্বে দেবে। আমার বাবা যে দল আওয়ামী লীগ করেছেন, আজ সেই দল সারাদেশের মানুষের কাছে ভোট চোর হিসেবে চিহ্নিত। তারা আজ ভোট ও ভোটারদের সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তারা দেশে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলে, কিন্তু তা পুরোটাই মিথ্যা।
তিনি আরো বলেন, আমার বাবা থাকাকালীন সময়ের আওয়ামী লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগে অনেক তফাত রয়েছে। আজ ১৫টি বছর হতে চললো আমার বাবা হত্যার একটি সুষ্ঠু তদন্ত এখনো আমাদের পরিবার দেখতে পরিনি।
ড. রেজা বলেন, চাঁদপুরে এসে মনে হচ্ছে উন্নয়ন হয়েছে। সারাদেশের উন্নয়নটা কিন্তু আমার মনে হয় ঢাকা কেন্দ্রিক। আজ ধর্ষণ, গুম ও হত্যা দেশে কালচার হয়েগেছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল নয়। অর্থনৈতিক ধসের জন্য এ সরকারের পতন ঘটবে। এর ফল সরকার ভোগ করবে, সাথে সাথে দেশের মানুষেরও অনেক কষ্ট হবে। আওয়ামী লীগ ভাবে পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হবে, ভোট ছাড়া নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে সুষ্ঠু চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। ওনার মেডিক্যাল রিপোর্টে ধুম্রজাল রয়েছে। উনি ৩বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। উনি আমাদের দলের কেউ না, তবু উনার প্রতি এ অবমানরার প্রতিবাদ করতে হবে।
ইভিএমকে আমি বলি ‘ইভিএফ’ অর্থাৎ এটি ইলেক্ট্রনিক ফ্রড মেশিন। বিশ্বের ৩১ দেশ পরীক্ষা করে বাদ দিয়েছে। মাত্র ৪টি দেশ এটিকে গ্রহণ করেছে। আজ ঢাকা সিটির নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট চুরির নতুন উপায় বের করেছে। জনগণের দাবি এ সরকার মানছে না। আমরা চাই আইনের শাসন ও জবাবদিহিতামূলক সরকার।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমানে জাতির বিবেক হিসেবে ড. কামাল হোসেনকে দেখা হচ্ছে। ওনি ৮২ বছর বয়সে দেশের মানুষের জন্য এখনো কিছু করেতে চান। আপনারা সংগঠনিক কর্মকান্ড সঠিকভাবে করবেন। আপনাদের শক্তিশালী নেতৃত্বে দেশকে ভাল অবস্থায় নিতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গণফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই সরকারের সময়ে বাংলাদেশের ৭ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশের পুজি বাজারকে ধ্বংস করা হয়েছে। সংসদে বলেছিলাম দুর্নীতি দমন করতে হলে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইবুনাল তৈরি করে বিচার শুরু করেন। দেশের শীর্ষ ১২জনকে দমন করতে পারলে দুর্নীতি ৫০ ভাগ কমে যাবে। জাতির জনক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার হাতে গড়া দল দুর্নীতি দমনে তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আমরা দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে গণফোরামকে সংগঠিত করবো।
সংগঠনের জেলা সভাপতি অ্যাড. সেলিম আকবরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গণফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মহসিন রশিদ, অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহাম্মদ, দপ্তর সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন।
আরো বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা গণফোরামের আহ্বায়ক আহসান আক্তার, গণফোরামের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন হাওলাদার, শহর গণফোরামের সভাপতি আবুল খায়ের মিয়া, গণফোরামের যুব বিষয়ক সম্পাদক বিজয় মজুমদার, শ্রমিক গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহীদ বকাউল, যুব গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হাজি আশ্রাফ বাবু, মহিলা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী বেগম, হাজীগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, কচুয়া উপজেলা গণফোরামের সদস্য হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মো. নূরুল হক মিয়া ও গীতা পাঠ করেন বাসুদেব মজুমদার।
