জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তথ্য অধিকার আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ
………….অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম জাকারিয়া

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও সনাক-চাঁদপুরের আয়োজনে ২ দিনব্যাপী তথ্য মেলা শেষ হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি ইয়েস গ্রুপের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় দুর্নীতিবিরোধী কুইজ প্রতিযোগিতা, সনাকের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় কিশোরী স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা, ইয়েস গ্রুপের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতা, সনাকের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমার দপ্তরই তথ্য আইন সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে মানে এই বিষয়ের উপর বারোয়ারী বিতর্ক, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ ও আনন্দধ্বনি সংগীত বিদ্যায়তনের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তথ্য মেলার সফল সমাপ্তি হয়।
আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশসাক এসএম জাকারিয়া বলেন, সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য তথ্য অধিকার আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য মেলা-২০২০ অত্যন্ত চমৎকার ও বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হতে যাচ্ছে। তথ্য অধিকারের গুরুত্ব বিবেচনা করেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করে। ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন হলেও এখনো অনেকেই এ আইন সম্পর্কে তেমন জানেন না। এখন সরকারি প্রতিটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ করছে। এখন সরকারি যেকোন দপ্তরের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। সরকার এখন যেকোন তথ্য পেতে একটি হটলাইন চালু করেছে। ‘৩৩৩’ এই হটলাইনে ফোন করলে প্রয়োজনীয় যেকোন তথ্য পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ই-সিটিজেনের ধারণাগুলো সাধারণ জনগণকে জানাতে হবে। এসময় তিনি মানুষজনকে তথ্য জানার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার জন্যে বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
তথ্য মেলা বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্যাহ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ আলী, সনাকের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন, সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মালেক ও শাহানারা বেগম, মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নাজমুন নাহার।
বক্তারা বলেন, তথ্য না জানার কারণে সাধারণ মানুষ বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান আগের তুলনায় অনেক বেশি জনবান্ধব। জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে হলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। তথ্য জানার দরকার নিজের প্রয়োজনে। তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য মেলা বাস্তবিক ও খুবই প্রয়োজন। আগামি দিনগুলোকে সনাক-টিআইবি’র যেকোন কার্যক্রমে সহযোগিতা থাকবে। আমরা চেষ্টা করি সাধারণ জনগণকে সঠিকভাবে সেবা প্রদান করার জন্য।
সনাকের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় কিশোরী স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. ইলিয়াছ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সাজেদা পলিন ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সাবেরা ইসলাম। বিভিন্ন স্কুল কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।
সনাকের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমার দপ্তরই তথ্য আইন সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে মানে এই বিষয়ের উপর বারোয়ারী বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন করেন চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ, চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের সহকারী-পরিচালক মো. তাজ বিল্লাহ, পুরাণ বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো. মাসুদ রানা।
মেলায় যেসব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথ্যসেবা প্রদান করেন তারা হলেন- তথ্য প্রদান ইউনিট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পুলিশ বিভাগ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, চাঁদপুর পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কর কমিশনারের কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর, জেলা তথ্য অফিস, জেলা সমবায় কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, শিশু একাডেমি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিআরটিএ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল, মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর।
আলোচনা সভা শেষে তথ্য মেলায় আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। এছাড়াও মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনদপত্র প্রদান করা হয়। আনন্দধ্বনি সংগীত বিদ্যায়তনের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তথ্য মেলার সফল সমাপ্তি হয়।
উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এ তথ্য মেলায় চাঁদপুরের সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী ৩১টি প্রতিষ্ঠান তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী জনগণকে তথ্য প্রাপ্তির কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে। মেলায় আগত দর্শনাথীদের সরকারি বেসরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে তথ্য পেতে পারেন সেজন্য তথ্য প্রাপ্তির আবেদন ফরম পূরণ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়।
