শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

মতলব দক্ষিণ ব্যুরো
মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা একটি ঐহিত্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চাঁদপুর জেলায় ফলাফলের দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো অবকাঠামোগত সমস্যা। ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজন ২৫টি শ্রেণি কক্ষ। বর্তমানে শ্রেণি কক্ষ আছে ১৫টি। এর মধ্যে পাকা শ্রেণি কক্ষ ৯টি এবং টিনশেডে কাঁচা ঘরে আছে ৬টি শ্রেণি কক্ষ। বাকি শ্রেণি কার্যক্রমগুলো হোস্টেলের কার্যক্রম দিনের বেলায় বন্ধ রেখে চালাতে হয়। জরাজীর্ণ টিনের ঘর হওয়ার কারণে এসব শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসায় ৫ম, ৮ম এবং দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় পরীক্ষার সময় শিক্ষার্র্থীদের আসন বিন্যাস করতে কর্তৃপক্ষের হিমশিম খেতে হয়। চলতি ২০২০ সালের দাখিল পরীক্ষায় মোট ৮টি মাদ্রাসার ৫ শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। পরীক্ষার্থীদের একটি সুন্দর পরিবেশ প্রদান করার জন্য আন্তরিকতা থাকলেও অবকাঠামোগত সুযোগ দিতে পারছে না মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র থাকার জন্য যেসব অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন তা অনেকাংশেই নেই মাদ্রাসাটির। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির ৫ম, ৮ম ও দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র এখান থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশংকা করছেন অভিভাবক-শিক্ষার্থীসহ এখানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার শিক্ষানুরাগী মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামান্য সদিচ্ছা হলেই অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সক্ষম হবে ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ।
বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সরকারি কোন উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ না থাকায় নিজস্ব অর্থায়নে মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ সময় পর গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা ফাউন্ডেশনের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ১ তলা সম্পন্ন করা হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে ৫টি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। যার মেঝে কাঁচা মাটির তৈরী। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা মাটির টিনশেড ঘরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি পড়ায় ছাত্র/ছাত্রীদের পাঠদান করতে ব্যাহত হয় বলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান। মাদ্রাসায় এবতেদায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে ফাযিল ৩য় বর্ষ পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি চালু করা হয়েছে হিফ্জ বিভাগ এবং নূরাণী বিভাগ। মাদ্রাসার এ শ্রেণি কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম চালানোর জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সুদৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদসহ এলাকাবাসী।
