
এস এম সোহেল
আনন্দঘন পরিবেশ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। গতকাল রোবববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ধাপে-ধাপে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনায়নপত্র বাছাই করা হয়। এতে ১ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যাংকে ঋণ খেলাপী থাকায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে ৩ জন মেয়রসহ ১৫টি ওয়ার্ডে এখন শতজন প্রার্থী আগামি ২৯ মার্চের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শাহআলম ভূঁইয়ার ব্যাংকে প্রায় ৬ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। তা পরিশোধ না করায় তার মনোনয়নপত্রটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হেলাল উদ্দিন অবৈধ বলে বিকেল ৫টায় ঘোষণা করেন। অন্য যেসব প্রার্থীর ঋণের অভিযোগ ছিল তাদের দুপুর দেড়টার মধ্যের কাগজপত্র ও ঋণ পরিশোধ করে আসার নির্দেশ দিলে তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিশোধের কাগজ নির্বাচন কার্যালয়ে জমা দিলে তাদের প্রার্থীতা বৈধতা পায়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. হেলাল উদ্দিন প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবেন। আপনারা যদি ২৯ মার্চ সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখেন তাহলে আমরা সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত করতে পারবে। যদি আপনারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তাহলে ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি খারাপ হবে। আমরা প্রতীক বরাদ্দের সময় জানতে পারব কোন প্রার্থী ইভিএম পদ্ধতিতে কত নম্বরে থাকবেন। নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে চলবেন। কোন প্রার্থী আঠাযুক্ত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি দোয়া চেয়ে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে থাকেন তাহলে ২৭ মার্চ রাত ১২টার মধ্যে খুলে ফেলতে হবে। নির্বাচন আইনী প্রক্রিয়ায় হবে। আর সেটা হলো নির্বাচনী আইন। মনোনয়ন বাতিলকৃত প্রার্থী ৩ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আপিল করতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২৯ মার্চ নির্বাচনের দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠক ও পথসভা করতে পারবেন। মিছিল মিটিং, মোটর শোভাযাত্রা করা যাবে না। পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীরা তার নির্বাচনী ওয়ার্ডে একটির বেশি ক্যাম্প তৈরি করতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মাইক ব্যবহার করা যাবে। তা দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচনী পোস্টারে কোনভাবে লেমেনেটিং বা প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো যাবে না। যেসব প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন তারা ৮ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন জমা দিতে পারবেন। আমরা প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিটি ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোটারদের ইভিএম পদ্ধতি ভোট প্রদানের প্রশিক্ষণ দেব। আমরা আপনাদের যে আচরণবিধির কাগজ দিয়েছি তা আপনারা মাইক ব্যবহার করার সময় মাইকম্যানকে দিবেন। প্রতিক বরাদ্দের আগে তথ্য প্রযুক্তিতে প্রচার করতে পারবেন না। মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় ৫টি ক্যাম্প তৈরি করতে পারবেন না। পথসভা করা যাবে, তবে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। স্কুল মাঠ বেছে নিয়ে পথসভা করবেন। কোথায় সভা ও উঠান বৈঠক করবেন তা আমাদের লিখিতভাবে জানাতে হবে। একজন মেয়র প্রার্থী ১৫টি মাইক ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কমিয়ে করলে ভালো হবে। সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ৩টি ওয়ার্ডে ৩টি ক্যাম্প তৈরি করতে পারবেন। এক ওয়ার্ডে ৩টি ক্যাম্প করা যাবে না।
মেয়র পদে বৈধতা পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল।
কাউন্সিলর পদে যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে তারা হলেন- ১নং ওয়ার্ড থেকে মোহাম্মদ আলী মাঝি, আছলাম গাজী, নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী ও আসলাম তালুকদার। ২নং ওয়ার্ড থেকে মো. মালেক শেখ, মো. সিদ্দিকুর রহমান ঢালী, কামাল হাওলদার ও মো. সাইফুল ইসলাম। ৩নং ওয়ার্ড থেকে আব্দুল লতিফ গাজী, আবুল হাসনাত, গাজী মো. হাসান, মো. সহিদুল ইসলাম ও মো. শাহাদাত হোসেন। ৪নং ওয়ার্ড থেকে শাহ আলম মিয়াজী, মামুনুর রহমান দোলন ও আব্দুর রহমান মিয়াজী। ৫নং ওয়ার্ড থেকে বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া, সাইফুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, নজরুল ইসলাম গাজী, শাহ আলম খান, ইব্রাহিম ঢালী, আলমগীর খান, মেহেদী হাসান বাচ্চু হাজী ও আলমগীর মিয়াজী। ৬নং ওয়ার্ড থেকে বিপ্লব চক্রবর্তী, হাবিবুর রহমান, সোহেল রানা ও বিএম নজরুল ইসলাম সেকুল। ৭নং ওয়ার্ড থেকে ইকবাল হোসেন বেপারী, সফিকুল ইসলাম, আলী আহমেদ সরকার, শাহ আলম বেপারী, জিয়া প্রধানীয়া ও আনোয়ার হোসেন। ৮নং ওয়ার্ড থেকে আবুল কালাম আজাদ, হোসেন গাজী, হেলাল হোসেন, নাছির আহমেদ ও আলমগীর হোসেন। ৯নং ওয়ার্ড থেকে সেলিম মোল্লা, বিল্লাল হোসেন মাঝি, চাঁন মিয়া মাঝি ও ওয়াহিদুর রহমান মন্টু মাঝি। ১০নং ওয়ার্ড থেকে রফিকুল ইসলাম খান, আল-আমিন গাজী, সুমন সরকার জয়, আসাদুজ্জামান সোহাগ, ইউনুছ সোহেব, বজলুর রহমান মোল্লা, দেওয়ান মো. শাহজাহান, আল-মামুন, গিয়াস উদ্দিন, খোকন মজুমদার, আরিফুর রহমান ও ইউসুফ মিয়াজী। ১১নং ওয়ার্ড থেকে মাইনুল ইসলাম পাটওয়ারী, জয়নাল আবেদীন ও ইকবাল হোসেন। ১২নং ওয়ার্ড থেকে হাবিবুর রহমান, ফেরদৌস খান, শরিফ উদ্দিন আহমদ ও মোস্তফা ঢালী। ১৩নং ওয়ার্ড থেকে সেলিম গাজী, আলমগীর গাজী, শফিকুর রহমান পাটওয়ারী, গাজী মো. শাহজাহান, হান্নান ঢালী, এবিএম আরিফ ইকবাল তালুকদার ও ফেরদৌস গাজী। ১৪নং ওয়ার্ড থেকে হুমায়ুন কবির দুলাল মাল, সুকমল কর, হারুনুর রশিদ হাওলাদার, মহসিন মজুমদার, লোকমান মজুমদার ও খায়রুল ইসলাম নয়ন। ১৫নং ওয়ার্ড থেকে মো. কবির হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মালেক বেপারী ও নূরে আলম।
সংরক্ষিত কাউন্সিলর-১, ২ ও ৩নং ওয়র্ড থেকে ফারজানা আক্তার, ফেরদৌসি আক্তার, ময়না বেগম ও ইশিতা বেগম। সংরক্ষিত কাউন্সিলর-৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড থেকে মোসা. শাহনাজ আলমগীর, নাজমা আলম ও খালেদা বেগম। সংরক্ষিত কাউন্সিলর-৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড থেকে আসমা আক্তার মনি, আয়েশা বেগম, ফরিদা ইলিয়াছ, শরিয়তুন্নেছা শিল্পী ও মনি বেগম। সংরক্ষিত কাউন্সিলর-১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ড থেকে রেবেকা সুলতানা বকুল ও আয়েশা রহমান। সংরক্ষিত কাউন্সিলর-১৩, ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ড থেকে খাদিজা আক্তার, শাহিনা বেগম, শাহনাজ রহমান ও শাহানারা বুলবুল হোসেন।
