নূরে আলম খান
চাঁদপুরের মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের উপযোগী। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের পাট চাষের প্রতি বেশ আগ্রহ রয়েছে। চাঁদপুরের প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই কমবেশি পাট উৎপন্ন হয়ে থাকে। যার ফলে ৩টি পাটকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেগুলো এখনও পাটজাত পণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছে। পাটের ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে চাঁদপুরের বেশ সুনামও রয়েছে।
এদিকে চলতি বছর চাঁদপুরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাটের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও কৃষকরা চিন্তার শেষ নেই। কারণ পাট চাষিরা পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর পানিতে ধুয়ে রাস্তায় বা বিভিন্ন জায়গায় রোদে শুকাতে দিলে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে পাট শুকাতে হিমশিম খাচ্ছে। শুধু বৃষ্টিই নয়, কল্যাণপুর ইউনিয়নের এক কৃষক পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য লোকের অভাবে পানি থেকে তার পাট উঠায়নি বলে জানা যায়।
কল্যাণপুর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, এবার আমাদের পাটের ফলন ভালো হয়েছে, দামও একটু ভালো। কিন্তু পাটের আঁশ ছাড়ানোর লোক না পাওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পানিতে ভিজে অনেকেই পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য রাজি হচ্ছে না। কারণ এতে যদি তাদের জ্বর, সর্দি-কাশি হয়ে যায়। এসব উপসর্গ মহামারী করোনাভাইরাসের প্রধান উপসর্গ হওয়ায় লোকজন এসব কাজে আসছেন না।
তারা আরো জানান, অতিবৃষ্টির কারণে আমরা পাট ভালোমতো শুকাতে পারছি না। যদিও কষ্ট করে শুকাই তখন পাটের রঙটা কালচে হয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমরা চিন্তায় আছি- সঠিক দাম পাবো কিনা?
উল্লেখ্য, পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের জলবায়ু পাট চাষের জন্য এতই উপযোগী যে পৃথিবীর উন্নতমানের পাট বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়। এক সময় পাট বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো। তাই পাটকে বলা হতো সোনালী আঁশ। বাঙালি জাতি পাটকে সোনার সাথেই তুলনা করতো।
বাংলাদেশের পাট চাষ ফাল্গুনের শেষ থেকে আষাঢ়ের শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ৪৯ প্রজাতির পাট রয়েছে। প্রধানতঃ দেশী ২৫টি, তোষা ১৭টি, কেনাফ ৪টি ও মেস্তার ৩টি। তবে বাংলাদেশে ২৮ প্রজাতির পাট’ই বেশি চাষ হয়ে থাকে অঞ্চলভিত্তিক।
২০ জুলাই, ২০২০।
