স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন।
সকালে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সকাল সাড়ে ১০টায় পুরাণবাজার ৪নং ওয়ার্ডের মেইল গেট সংলগ্ন গফুর মিজি বাড়িতে উঠোন বৈঠক করেন। দুপুর ১২টায় জাফরাবাদে গণসংযোগ করেন, বিকেল ৩টায় বেপারী বাড়ি, বিকেল ৪টায় মোস্তাক হায়দার চৌধুরী বাড়ি, মজু বেপাারী বাড়ি, দেওয়ান বাড়ি ও মিজি বাড়িতে উঠান বৈঠকে মিলিত হন।
বিকেল সাড়ে ৫টায় মধ্য শ্রীরামদী, মমিনবাগ নুরু ভূঁইয়ার বাড়ি, বাচ্চু মিজির বাড়ি, ব্রীজের গোড়ার নদীর পাড় ও সবশেষে রাত ৮টায় চাঁদপুর গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এসময় জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতার সরকার। আমার বাবা এই এলাকায় শিক্ষকতা করেছেন। এ সভায় আমার বাবার অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। আজকে আমি ভোটের জন্য আপনাদের কিছু শিখিয়ে দিতে শিক্ষক পিতার সন্তান হিসেবে কিছু শিখাতে এসেছি। আগামি ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। এই প্রথম দলীয় প্রতীক ও ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আপনারা ভোট কেন্দ্র উপস্থিত হয়ে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিবেন। ইভিএম পদ্ধতি হলো, ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন। এই মেশিনে আপনার ভোট অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। কেননা আপনার আঙ্গুলের ছাপই আপনাকে সন্তান করিয়ে দিবে আপনি ভোটার কিনা। আমাকে বিজয়ী করতে হলে ভোটের দিন আপনারা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, অনেক জায়গাতেই আমার পোস্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তারপরও আমি আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। কেননা আমি চাই সবার অংশগ্রহণে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ইভিএম পদ্ধতিতে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। ১০ অক্টোবর আপনারা যদি ভোট কেন্দ্রে না যান তাহলে আমি বিজয়ী হয়ে আপনাদের কোন কাজ করতে পারব না। আমাকে বিজয়ী করতে হলে ভোটের দিন আপনাদের সকলকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। আর নৌকা হলো স্বাধীনতার প্রতিক। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের কিছু হয় না। অনেক প্রার্থীর লোক জন অনেক কথা বলবে, আপনারা কোনো কথায়, কান দিবেন না। একজন প্রার্থী যে কোন দল থেকে মনোনয়ন পেতে পারে। প্রার্থী দলের হতে পারে। তবে তার কাজ করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আপনাদের এলাকার রাস্তা ঘাট ও ড্রেনের সমস্যা দূর করব। ড্রেন যদি না করা হয় রাস্তা করে কোন লাভ হবে না। তাই আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে আমি গুরুত্ব দিব। এরপর রাস্তার কাজ করে দিব।
এ সময় তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের মার্কা নৌকা। আজ আমি ৪৮ বছর বয়সে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। আমি চাই মেয়র হই চাঁদপুর পৌরসভার সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে পারব। আমাদের কাজ হবে রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনের সমস্যা দূর করে উন্নয়ণ করা। একজন ভালো পোষাক পড়া ও দামী গাড়িতে চরা ব্যক্তির যেমন একটা ভোট তেমনি এক জন ঘাম ঝরানো শ্রমিকের ও একটা ভোট। তাই দামী পোষাক পরা ব্যাক্তি আমার সাথে চা খেয়ে সমস্যার কথা বলবে, তেমনি একজন ঘাম ঝরানো মেহনতি শ্রমিকও আমার সামনে বসে চা খেয়ে তার সমস্যার কথা বলবে। আমি চাঁদপুর পৌরসভাকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে কাজ করব।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতা মো. হান্নান মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বিপ্লবের পরিচালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল, কাউন্সলর প্রার্থী মামুনুর রহমান দোলন, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী খালেদা রহমান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা আবুল হোসেন বেপারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির খান, গোলাম মোহাম্মদ মাস্টার, জসিম উদ্দিন মিজি, নাজির পাটওয়ারী, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন প্রমুখ।
৯ অক্টোবর, ২০২০।
