হাজীগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ স্টেশন রোডের মুখে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে হাজীগঞ্জ থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহত হন। পরে থানা থেকে অতিরিক্তি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁদপুর সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার।
এ দিন বিকালে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের ব্যানারে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এমএ মতিনের সমর্থনকারী।
জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিলটি হাজীগঞ্জ বাজার সেতুর পূর্ব পাড় থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার ঘুরে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সামনে আসলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এরপর ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশের কথা চলাকালীন সময়ে মিছিলের পেছন দিকে থাকা কর্মীরা স্টেশন রোডের সম্মুখে থানার একজন উপ-পরিদর্শকের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনিসহ পুলিশের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর চাঁদপুর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা এসে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগ দেয়। পুলিশ হামলার ঘটনাস্থলের পাশে থাকা একটি দোকানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) থেকে হামলার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁদপুর সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান এবং এ বিষয়ে মামলা করা হবে বলে তিনি সংবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই দিন বিকালে মো. ইউনুছ নামে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জরুরি বিভাগ থেকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জিসান আহমেদ ছিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মিছিল নিয়ে বড় মসজিদের সামনে আসলে এসআই সুমন মিয়া আমাদের মিছিল না করার জন্য বলেন। এরপর আমরা মিছিল ছাড়াই চলে এসেছি। এখন মিছিলের পেছন দিক থেকে কে বা কারা কি করেছে, তা আমরা জানি না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে পুলিশের উপর হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
এদিকে একই বক্তব্য দিয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত অনিক মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশের উপর হামলায় আমাদের কেউ জড়িত ছিলো না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দলীয় কর্মসূচিগুলো পালন করেছি। কখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে আমাদের ঝামেলা হয়নি।
বিক্ষোভ মিছিলের জন্য পুলিশের অনুমতি নেয়া হয়নি বলে জানান হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি। তিনি বলেন, ছাত্রদলের মিছিল থেকে পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এখন (ওই সময়) পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৩ জানুয়ারি, ২০২১।