ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় আবুল খায়ের পাটওয়ারী বিজয়ী

 

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের পাটওয়ারী ১৭,০০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. ইমাম হোসেনের পাটওয়ারী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৭০৬ ভোট। ৯টি ওয়ার্ডে ১৩টি কেন্দ্রের মোট ৩১,০৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৯,৪২৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এর আগে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। প্রথম পর্যায় সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতির ছিলো চোখে পড়ার মতো। এদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে বিএনপি প্রার্থী ইমাম হোসেন ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই নির্বাচন বর্জন করেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, তিনটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩জন আহত হয়েছে। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ করে বিএনপি প্রার্থী ইমাম হোসেন নির্বাচন বর্জন করেন ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই। তার অভিযোগ ছিলো নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
ফরিদগঞ্জের কাছিয়াড়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত প্রার্থীসহ ১০জন আহত হয়েছেন। এ সময় কেন্দ্রের পাশে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গুরুতর আহত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আলী হায়দার পাঠানকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, ৫নং ওয়ার্ডের মন্তি খাঁর মসজিদের সামনের অস্থায়ী কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সর্মথকদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এছাড়া ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে কাউন্সিলর প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষে অন্তত ৩জন আহত হয়েছে।
কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে যারা বিজয়ী হয়েছেন:
১নং ওয়ার্ডে মো. আমিনুল হক (উটপাখি) ৫৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসমাইল হোসেন (টেবিল ল্যাম্প) পেয়েছেন ৫৩০ ভোট। ২নং ওয়ার্ডে মো. আবুল হাসেম (পাঞ্জাবী) ৩৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান পাটওয়ারী (পানির বোতল) পেয়েছেন ৩৭৩ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে মো. জায়েদ হোসেন বাবুল (ডালিম) ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জয়নাল আবেদীন (উটপাখি) পেয়েছেন ৬১৫ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে মো. আব্দুল মান্নান পরান ২৬৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম লাভলূ (ব্ল্যাকবোর্ড) পেয়েছেন ৯৫ ভোট। ৫নং ওয়ার্ডে মো. জাহিদ হোসেন (পানির বোতল) ৭০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সোহেল দেওয়ান (উটপাখি) পেয়েছেন ৫৭৭ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে মো. মাজহারুল আলম মিরন (টেবিল ল্যাম্প) ৫০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মজিবুর রহমান (পাঞ্জাবী) পেয়েছেন ৩৩৫ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হোসেন (পানির বোতল) ২৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল রানা (ব্রিজ) পেয়েছেন ২৭৪ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে মো. জাকির হোসেন গাজী (উটপাখি) ৮৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দিলীপ চন্দ্র দাস (পানির বোতল) পেয়েছেন ৩৩০ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে মো. সাজ্জাদ হোসেন টিটু (ডালিম) ২৯৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাসুদ আলম ভুইয়া (উটপাখি) পেয়েছেন ১৯৯ ভোট।
এছাড়া সংরক্ষিত আসন-১ (১, ২ ও ৩) ওয়ার্ডে কুসুম বেগম (জবাফুল) ১৯৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোজিনা (টেলিফোন) পেয়েছেন ১৬৭৮ ভোট। সংরক্ষিত আসন-২ (৪, ৫ ও ৬) ওয়ার্ডে মোসা. খতেজা বেগম (চশমা) ৩০৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবিনা ইয়াসমিন (জবাফুল) পেয়েছেন ১৬১০ ভোট। সংরক্ষিত আসন-৩ (৭, ৮ ও ৯) ওয়ার্ডে সেলিনা আক্তার যোথী (আনারস) ২৩৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতেমা বেগম (চশমা) পেয়েছেন ১৭৫৮ ভোট।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কোন বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হয়নি। আমরা কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।
ভোট কেন্দ্রে পরিদর্শন করতে এসে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছে দেখে আমি উচ্ছ্বসিত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।