শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বাড়ছে
ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আস্তে-আস্তে কমে আসায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করছে। অতি সম্প্রতি সংক্রমণ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় সর্বমহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে
পরেছিল। ঐ সময়ে সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশের উপরে চলে গেলে প্রশাসন চাঁদপুর জেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবেও ঘোষণা করে।
বর্তমানে চাঁদপুরে সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় স্বস্তি বিরাজ করছে সর্বমহলে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি আরো উন্নতি হবে। একই সাথে সারা দেশের মৃত্যু ও সংক্রমণের হারও কমতে শুরু করছে। যার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর করোনার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ থেকে গত ১৬ আগস্ট হতে সংক্রমণের হার ২০ শতাংশে চলে আসে। তবে ২০ আগস্ট শনাক্তের হার ছিল ২৮ শতাংশ। ২১ আগস্ট ছিল ১৯.৮৩, এছাড়া ১৯ আগস্ট ছিল ২১.৯ এবং ১৮ আগস্ট ছিল ১৬.৬০ শতাংশ। এ ক’দিন চাঁদপুরে মৃত্যুহারও ছিলো কম। গত ২২ আগস্ট এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়। গত শনিবার মারা গেছেন ২ জন। গত ২০ আগস্ট মৃত্যু হয় ৩ জনের।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনে এ জেলায় ৪ হাজার ৯শ’ ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মাঝে করোনা শনাক্ত হয় ১ হাজার ২শ’ ৬৫ জনের। যা মোট পরীক্ষার ২৫.৫১ শতাংশ।
গত ১০ দিনে হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু হয় ৫৬ জনের। তাদের মাঝে করোনা পজিটিভে মৃত্যু হয় ১৫ জনের। উপসর্গে মৃত্যু হয় বাকি ৪১ জনের।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, গত রোববার হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিলো ৭৮ জন। আর শনিবার ছিলো ৯৫ জন। এছাড়া শুক্রবার রোগী ভর্তি ছিলো ৯২ জন। ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল আরো জানান, গত এক সপ্তাহ আগেও রোগী ভর্তি ছিল গড়ে দেড়শ’ জন। তার আগে গড়ে প্রায় ২শ’ মতো।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং দ্রুত টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই আলোকে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কর্মসূচি ঠিক করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। সে আলোকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী এ ছুটি আছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। বিকল্প উপায়ে টিভি, অনলাইন, অ্যাসাইনমেন্টসহ বিঋিণ্নভাবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো শ্রেণিকক্ষে যেভাবে পড়াশোনা হতো, তা এসবের মাধ্যমে হচ্ছে না।
এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণে দেশে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১শ’ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে ৫ হাজার ৭শ’ ১৭ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
গত রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে দেশে করোনা সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। আগের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু কমলেও রোগী শনাক্ত বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শনাক্তের হার।
২৪ আগস্ট, ২০২১।
