মনিরুল ইসলাম মনির
বর্ষার শেষ থেকে ‘গেন্ডারি/ইক্ষু’ নামের আখ খুচরা ও পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছে। মতলব উত্তরে উপজেলায় আখের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলার কৃষক
এবার আখ চাষে বেশি লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন। পাইকারি ও খুচরা বিক্রি চলবে আগামি তিন-চার মাস। আখ চাষ লাভজনক হওয়ায় এর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও সাথী ফসল হিসেবে লালশাক, মূলা, ধনিয়া, টমেটো চাষ করে একই জমি থেকে একাধিক ফসল আবাদ সম্ভব হচ্ছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কিছু আখ ক্ষেতে পানি জমে আখের ক্ষতি হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলা ২১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে।
হানিরপাড় গ্রামের কৃষক মাহবুব আলম ও দশানী গ্রামের হাফেজ আলী বলেন, জমিতে আলু থাকায় আখ লাগান তারা। এ বছর আখের ভালো ফলন হয়েছে। তবে মতলব উত্তরে ‘গেন্ডারি’ নামের আখই বেশি চাষ হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাম-গঞ্জের বাজারে খুচরা বিক্রি শুরু হয়েছে। ছোট-বড় সাইজের প্রতি পিস আখ বাজারে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রি হয় পুরো জমি কিংবা ১০০ আখ একসঙ্গে দরদাম করে। আখও অনেক লম্বা হয়েছে। গেল মাস থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে।
ছেংগারচর এলাকার কৃষক আক্কাছ আলী জানান, তিনি এ বছর আলু আবাদ করে অনেক ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন। এখনও সার-বীজের দোকানে বকেয়া রয়েছে। আলুর জমিতে আখ চাষ করেছেন তিনি। ফলনও ভালো হয়েছে। তার জমিতে দুই জাতের আখ রয়েছে। একটি চাঁদপুর গেন্ডারি; অন্যটি অমিতা (স্থানীয় নাম)। কিছুদিন সময় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করবেন। এতে তিনি ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন। আক্কাছ আলী জানান, মতলব উত্তরের আখ বেশিরভাগ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লায় বিক্রি হয়। নদী ও সড়কপথে এসব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বহু বছর ধরে ওইসব এলাকার ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই আখ ক্রয় করে নিয়ে যান।
মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ছোট হলদিয়া গ্রামের কৃষক শামীম ৮০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছেন, প্রতি শতক জমির আখ ২ হাজার ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকা।
আখ ব্যবসায়ী সফিক বলেন, এ বছর আমরা প্রতি একশ’ পিস আখ সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রয় করছি। এ বছর আখের ভালো ফলন হওয়ায় আগামিতে আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আখ চাষিদের জমি পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। আখের ফলন ভালো হয়েছে। আগামিতে আরো আখ চাষ বৃদ্ধি পাবে- সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
২৪ আগস্ট, ২০২১।
