নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে একই বাড়ির দুবাই প্রবাসী আলী হোসেনের লম্পট ছেলে আল-আমিন। ঘটনাটি উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম
ইউনিয়নের বিশকাটালি গ্রামের খন্দকার বাড়িতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে। ঘটনার শিকার শিশু স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষক আল আমিন খন্দকার (২০) কে মঙ্গলবার রাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ আটক আল-আমিনকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে। এছাড়া ঐ শিশুকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করে।
সরেজমিনে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার শিশু ও অভিযুক্ত ধর্ষক আল-আমিন উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বিশকাটালি গ্রামের খন্দকার বাড়ি তথা একই বাড়ির বাসিন্দা। ঘটনার সময় অভিযুক্ত ধর্ষক আল-আমিন শিশুকে চকলেট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের বসতঘরে ডেকে নেয়। এসময় তাদের ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে আল-আমিন শিশুকে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের শিকার শিশুটি তার মার কাছে ঘটনাটি বলে। বিষয়টি শিশুর মা পরিবারের অন্য সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্যদের জানালে আল-আমিনের মামাসহ এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্ত ধর্ষক আল-আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
গতকাল বুধবার দুপুরের পর শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ আটক আল-আমিনকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে। এছাড়া শিশুকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক আল-আমিন কর্তৃক ইতোপূর্বেও একই বাড়ির বিধবা ও বৃদ্ধা দুই নারী অনুরূপ ঘটনার শিকার হয়েছেন। লোকলজ্জার ভয়ে তারা তখন কোনো প্রকার আইনের আশ্রয় নেননি।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অভিযুক্ত আল-আমিনকে তার বাড়ি থেকে আটক করে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া শিশুকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
