হাজীগঞ্জে ভোটে হেরে বাঁশের সাঁকো ভেঙে দিলো পরাজিত মেম্বার প্রার্থী

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ভোট না দেওয়ায় ৪ বাড়ির মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পরাজিত মেম্বার (ইউপি সদস্য) প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডের ‘মোরগ’ প্রতীকের ইউপি সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ওই ইউনিয়নের রাধাসার গ্রামের মৃধা সংলগ্ন মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে করে স্থানীয় ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা সাঁকোটি নতুন করে নির্মাণ ও এ ঘটনায় জড়িত পরাজিত মেম্বার প্রার্থী কামরুজ্জামান মোল্লাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাকিলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার (ইউপি সদস্য) পদে কামরুজ্জামান মোল্লা ‘মোরগ’, রবিউল আলম অরুন ‘ফুটবল’ ও শাহাদাত পাঠান ‘টিউবওয়েল’ প্রতীকে অংশ নেন।
এর মধ্যে বর্তমান মেম্বার রবিউল আলম অরুন পূণরায় নির্বাচিত এবং কামরুজ্জামান মোল্লা ও শাহাদাত পাঠান পরাজিত হন। এতে করে কামরুজ্জামান মোল্লা ভোটে হেরে মৃধা বাড়ির ভোটারদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে দেশীয় হাত দা নিয়ে চার বাড়ির চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে দেন।
এ বিষয়ে মৃধা বাড়ির আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, শাহাদাত হোসেন, সফিকুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রতি বছর বর্ষা শেষে তারা বাড়ির লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও আশ-পাশের মানুষের সহযোগিতায় বাঁশের সাঁকোটি স্থাপন করেন। এই সাঁকোটি দিয়ে চার বাড়ির প্রায় দুইশ’ পরিবারসহ পার্শ্ববর্তী বাখরপাড়া গ্রামের লোকজন চলাচল করেন।
এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, ভোট না দেওয়ার অভিযোগ এনে এ দিন (মঙ্গলবার) সকালে তাদের ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী কামরুজ্জামান মোল্লা বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে দেন। যার ফলে রাধাসার গ্রামের তফাদার বাড়ি, মৃধা বাড়ি, মোল্লা বাড়ি ও পাটওয়ারী বাড়িসহ ২শ’ পরিবারের চলাচলেল পথ বন্ধ হয়ে যায়।
সাঁকোটি ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মোল্লা জানান, নির্বাচনে হেরে নয়, আমাদের সম্পত্তির উপর দিয়ে বাঁশের সাঁকোটি স্থাপন করার কারণে ভেঙে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমাদের সম্পত্তির উপর বাঁশের সাঁকোটি স্থাপন করার কারণে আমি কিছু বলতে পারিনি। এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে। তাই সাঁকোটি আমি ভেঙে দিয়েছি।
বাকিলা ইউপির চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওই বাড়ির লোকজন সাঁকো ভাঙার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন।

২৯ ডিসেম্বর, ২০২১।