মতলব উত্তর ব্যুরো
শীতের আগমনে অতিথি পাখিদের কলতানে মতলব উত্তরের চরাঞ্চল মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রকৃতিতে লেগেছে তার নান্দনিক ছোঁয়া। অতিথি পাখিদের উড়াউড়ি আর চিক চিক শব্দে সাজ সাজ রব করছে। মতলব উত্তর উপজেলার চরকাশিম, বোরোচর, চরওমেদ, জহিরাবাদচর, চরহুরমহিষা, চরএলেন, চরজিংকিং, চরওয়েষ্টার, বাহেরচর এখন পাখিদের হাট বসেছে।
বিচিত্র পাখ-পাখালির মধুময় কলতানে প্রতিদিন মুখরিত হয়ে উঠেছে এখানকার জনপদ। বছর জুড়ে হরেক রকম পাখির কল কাকলীতে সরব থাকলেও, শীতে যেন নতুন প্রাণ পায় এ সকল অঞ্চলের পাখিরা।
আবার এদের সঙ্গে যোগ হয় সাইব্রেরিয়াসহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত পাখির দল। ইতোমধ্যে হাজারও প্রকৃতি প্রেমীকে আকৃষ্ট করেছে বিচিত্র বর্ণিল অতিথি পাখিরা। মেঘনা ও পদ্মা নদীর কোল ঘেষে মতলব উত্তরের ১০টি চর রয়েছে।
ইব্রাহিম গাজী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, চরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অতিথি পাখি। দল বেধে পাখিদের উড়ে বেড়ানো আর খাবার সংগ্রহের দৃশ্য সত্যিই অতুলনীয়। পাখিদের কিচির-মিচির শদ্ধ শুনতে অনেক ভালোলাগে। শীত মৌসুমে অনেকে পাখি দেখতে ছুটে আসেন।
বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল-বিকেল খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় এদের। ডানা মেলে উড়ে চলা ও পাখিদের কলকাকলীতে মুখর থাকে চরগুলো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু শিকারি বিষটোপ, ধানের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আবার ছোট ছোট মাছের সাথে বিষ মিশিয়ে পাখি শিকারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চরে আশ্রয় নেওয়া পাখিরা অনেকটা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও অতিথি পাখিদের আভাসস্থল, বিচরণভূমি ও খাদ্যের সংকটেও রয়েছে।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, শীতের শুরুতে মতলব উত্তরে বিভিন্ন চরে অতিথি পাখিদের আগমন শুরু হয়েছে। অতিথি পাখি নিধন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
