হাজীগঞ্জে বসতঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে একটি বসতঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের ও হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৬১)। তিনি উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের ছিলাচোঁ গ্রামে বকাউল বাড়ির মৃত ক্বারী মো. আবু ইউসুফের ছেলে।
গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মাও. সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াছ সম্পত্তিগত বিরোধের জের এই অগ্নিকান্ড ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ একই বাড়ির ৫ জনকে বিবাদী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের এবং অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
আদালতে অভিযোগের বিবাদীরা হলেন- ওই বাড়ির মৃত জুনাব আলী বকাউলের ছেলে দ্বীন ইসলাম ওরফে ওমর ফারুক (৪৫) ও নুরুল ইসলাম (৬০), মেয়ে জাহেদা বেগম (৪৫), মফিজুল ইসলামের মেয়ে তাছলিমা বেগম (২৫) এবং সুজন (৩০) পিতা অজ্ঞাত।
আদালতে মামলা ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে মাও. সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও তার পরিবারের লোকজনকে হুমকি ধমকি দেন উল্লেখিত বিবাদীরা। যার ফলে ২০২০ইং সালের ৩০ জুলাই হাজীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-১২৬৮) করেন তিনি।
এরপর গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে তাদের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। আগুনে তার বসতঘর ও ঘরে থাকা নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা, দলিলসহ মূল্যবান কাগজপত্র, পোশাক ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৬০/৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে মাও. সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, বতর্মানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যার ফলে আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও সম্পত্তিগত বিরোধসহ অগ্নিকান্ডের সুবিচার চেয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে সরেজমিনে গেলে অভিযোগের বিবাদীদের ওই বাড়িতে না পাওয়া তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কথা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল বাসারের সাথে। তিনি বলেন, মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াছ আমার পাশের বাড়ির লোক। ওই দিন রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এরপর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেই এবং অন্য বাড়ি থেকে শ্যালো মেশিন এনে পানি নিভাই।
তিনি আরো বলেন, ওই আগুনে দুইটি ঘর পুড়েছে। এর মধ্যে একটি হলো মাও. ইলিয়াছের বসতঘর এবং অপরটি হলো তিনি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের দোচালা ঘর। উভয় পক্ষের বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২০ সালে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আমরা মিমাংসার চেষ্টা করেছি, ওই সময় মাও. ইলিয়াছ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাই আমরা এ বিষয়ে আর কথা বলিনি।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, আদালতে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে গতকাল (সোমবার) মাও. সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াছ থানায় একটি এজাহার (অভিযোগ) দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬ মার্চ, ২০২২।