২ ভুয়া পুলিশ আটক
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ
হাজীগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ব্যাংকের শাখা হতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা বাজারের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় যাচ্ছিলেন ওই শাখার পরিচালক নাজবুল হায়দার চৌধুরী। পথে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রনি ব্রিক ফ্লিডের সামনে পুলিশ পরিচয়ে দু’জন তার গতিরোধ করে। পরে তাকে গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নাজবুল হায়দার চৌধুরী। পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকার ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ পরিচয়ধারী দু’ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
আটক দু’ছিনতাইকারী হলেন- চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের মিনা গাজীর ছেলে মিন্টু গাজী ও ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলাইরচর গ্রামের মৃত আ. রউফের ছেলে রানা সিকদার প্রকাশ কেরামত আলী। গত রোববার রাতে কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা দক্ষিণ থানার সাউথ ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের আটক করেন হাজীগঞ্জ থানার এসআই মিসবাহুল আলম চৌধুরী ও এএসআই রেজাউল করিম।
জানা গেছে, বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) টাকা ছিনতাইয়ের শিকার হন নাজবুল আলম চৌধুরী। তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ একজনকে চিহ্নিত করে। এরপর কুমিল্লায় অভিযান পরিচালনা করে চিহ্নিত যুবককে আটক করার সময় তার সাথে অন্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ দৌঁড়ে অপর একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, পুলিশের ব্যবহৃত একটি হ্যান্ডকাপ ও একটি কটিসহ দু’জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আটকরা এ ঘটনার সাথে জড়িত এবং তাদের সাথে আরো চারজন রয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
