চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়

ইল্শেপাড় ডেস্ক
জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। শুক্রবারও (২৮ এপ্রিল) অর্থের বিনিময়ে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি গঠনে নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। এছাড়া গত ২৭ এপ্রিল জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম নজু, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান খান কাজল ও সৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রতিবাদ সভা ও বিবৃতি প্রকাশ করে একই কমিটির ৬ যুগ্ম-আহ্বায়ক।
জানা যায়, নেতাকর্মীরা মনে করেন ইফতার মাহফিলের নামে বিদেশ ও ১৪টি ইউনিয়ন যুবদলের নেতা-কর্মীদের কাছ চাঁদা আদায় করে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের গুটিকয়েক নেতার পকেটে ভারী করেছেন। এই প্রথম বৃহৎ কোন দলের ইফতার মাহফিলের নামে তালিকা করে চাঁদা আদায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম নজু, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান খান কাজল এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বাগাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হোসেন। শুধু তাই নয় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের নামে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুর সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জানান, আমরা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত প্রায় ২০ বছর যাবৎ। এ পর্যন্ত ইফতার মাহফিলের নামে ডোনেশন এই প্রথম। গত ১৮ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম নজু সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা নেতাদের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে ডোনেশনের নামে চাঁদা আদায় করেছেন।
জানা যায়, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের হারুনের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের যুবদলের আরিফ ও মাহবুব ২ হাজার করে ৪ হাজার টাকা, কল্যাণপুর ইউনিয়ন যুবদলের মোহাম্মদ আলী বেপারী ১ হাজার টাকা ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ গাজী ১ হাজার টাকা, বাগাদী ইউনিয়নের যুবদল নেতা মোবারক বাবু ও মহসীন ২ হাজার টাকা করে, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদ ২ হাজার টাকা, হানারচর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ারের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফয়সাল হাজরা, শাহমাহমুদপুর মনির মেম্বার, বাগাদী ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নয়ন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের খোরশেদ, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের বাদশাসহ বিদেশ বেশ-কয়েকজন নেতা-কর্মী ও বিএনপির শুভাকাক্সক্ষীর কাছ থেকে নজরুল ইসলাম নজুর নির্দেশে যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন বিভিন্ন হারে চাঁদা আদায় করছেন।
এছাড়া আরো জানা যায়, যেসব ইউনিয়নে যুবদলের কমিটি গঠন হয়নি, সেসব ইউনিয়নে একাধিক লোকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে। চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম নজু ও যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান খান কাজলের নির্দেশে আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন তালিকা করে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এসব চাঁদা আদায় করেন।
বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের একাধিক নেতা জানান, আমরা সদর উপজেলা যুদলের নেতাদের কাছে অসহায়। ২০০৬ সাল থেকে আমরা ক্ষমতার বাইরে। মামলা-হামলায় জর্জরিত। তার উপর নেতাদের বিভিন্ন সময় অন্যায় আবদার রাখতে হয়। বিএনপির কঠিন দুর্দিনের সময় দল চালাতে কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। অথচ ইফতার মাহফিলের নামে ডোনেশন (চাঁদা) আমরা এই প্রথম দেখলাম। বর্তমানে আমদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে, আমরা নিরুপায় হয়ে মুখ বুঝে নেতাদের অন্যায় আবদার রাখছি। তাদের আবদার না রাখলে দলের হাইকমান্ডের কাছে বলে আমাদের পদ থেকে সরিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয় তারা।
দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জানান, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনের ভাগিনা হওয়ার সুবাদে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম নজুর যুবদলের পদবাণিজ্যসহ বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের নেতাদের থেকে অন্যায় আবদার করে অর্থ আদায় করেন। গ্রামের প্রবাদের মতো মামু-ভাগিনা যেখানে আপন-বিপদ নেই সেখানে, সেই রকম ভাবেই নজরুল ইসলাম নজু পদ দেওয়ার নামে উৎকোচ নিয়ে মামুর মাধ্যমে তা জায়েজ করেন বলে নেতারা জানান।
তবে ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন জানান, ইফতার মাহফিলের নামে সদর উপজেলা যুবদল বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা, আমি কিছু জানি না। চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কে এম নজরুল ইসলাম নজু বলেন, ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদা আদায় ভিত্তিহীন, গুজব। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।
চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক বলেন, ইফতার মাহফিল হচ্ছে জেলা বিএনপির। সদর উপজেলা যুবদল বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কেউ এরকম কিছু করে তাহলে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যদি কেউ দিয়ে থাকে, তা তার ব্যাক্তিগত বিষয়।

২৯ এপ্রিল, ২০২৩।