মতলব উত্তরে ভুট্টার বাম্পার ফলন

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। অল্পসময়ে কম খরচে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এর চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম পুঁজি, ঝুঁকিহীন সেচ ও সার প্রয়োগের সুবিধা থাকায় কৃষকদের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে ভুট্টা চাষের আগ্রহ।
আবহওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা, এখলাছপুর, মোহনপুর, সুলতানাবাদ, ফতেপুর পশ্চিম, ফতেপুর পূর্ব, ফরাজীকান্দি, দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভুট্টা চাষে আশানুরূপ ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক। উপজেলায় উৎপাদিত ভুট্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হয়। একাধিক কৃষক জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উন্নত জাতের ভুট্টা চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে ভুট্টা ফলন ঘরে তুলতে কৃষক-কৃষাণি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০ হেক্টর জমি। চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা সহজে ভুট্টা চাষ করে অন্য ফসলের তুলনায় বেশি আয় করছেন।
ছেংগারচর পৌরসভার চাষি দুলাল বেপারী জানান, ভুট্টা আবাদে দু’-একবারের বেশি পানি দিতে হয় না। মাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এছাড়া এক বিঘা জমিতে কম সার ও দশ থেকে বার হাজার ভুট্টার চারা রোপণ করা যায়। ফলন ভালো। তাই দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।
এখলাছপুর ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি ইব্রাহিম গাজী জানান, ভুট্টা চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কারণ এর ফলন খুব দ্রুত আসে। আবার ভুট্টা ঘরে তোলার পরপরই পাট আবাদের সময় চলে আসে। তাই একই জমিতে পাট আবাদের চিন্তা করছেন তিনি। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় খোঁজখবর রাখে। প্রতিটি গাছে এক বা দুটি করে মোচা ধরে। প্রতি কেজি ভুট্টা ত্রিশ টাকায় বিক্রি করা যায়। এতে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব।
মতলব উত্তর উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, রবি মৌসুমে উপজেলায় এনকে-৪০, মিরাকেল, সুপার সাইন, টাইটান জাতের ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে পোকামাকড়ের তেমন আক্রমণ হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। চলতি বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকদের ভুট্টার দিকে যতœবান হওয়ার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় নিয়োজিত আছেন। তাই চলতি বছরে ভুট্টা চাষিরা লাভবান হবে।

২৯ এপ্রিল, ২০২৩।