চাঁদপুরে বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

বিশ্ব ও বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম ততদিন থাকবে
……..জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ মে) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
এসময় জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম নিয়েছিলেন নেতৃত্ব প্রদানের এক অমোঘ প্রতিভা নিয়ে। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যখন গোপালগঞ্জ একটি স্কুল পরিদর্শনে আসেন তখন তাঁর সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এলাকাবাসীর স্বার্থে বাদানুবাদে জড়াতে পিছুপা হননি। শেখ মুজিবের নেতাসুলভ আচরণ তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করলে কলকাতায় তাঁর সাথে দেখা করতে বললেন। যা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৫৬ সালের ৫-৯ এপ্রিল স্টকহোমে বিশ্ব শান্তি পরিষদের সম্মেলনেও যোগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, বিশ্ব শান্তি আমার জীবনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ, যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, তাঁদের সঙ্গে আমি রয়েছি। আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, তাকে সুসংহত করা হোক। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সম্মান কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য নয়। এ সম্মান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহীদদের, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানীদের। জুলিও কুরি শান্তি পদক সমগ্র বাঙালি জাতির। মুক্তিযুদ্ধের অনেক আগেই ১৯৬৯ সালে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সরকারের দৃঢ় অবস্থান ছিল কোনো সামরিক জোটে যোগ না দেয়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, আমরা সর্বপ্রকার অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দুনিয়ার সকল শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে বিশ্বাসী বলেই বিশ্বের সব দেশ ও জাতির বন্ধুত্ব কামনা করি। সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এই নীতিতে আমরা আস্থাশীল। তাই সামরিক জোটগুলোর বাইরে থেকে সক্রিয় নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি আমরা অনুসরণ করে চলেছি।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই স্বল্প সময়েই তিনি জাতির দিকরেখা স্বরুপ প্রনয়ণ করে গিয়েছেন সংবিধানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন কানুন। গঠিত করে গিয়েছেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন অতাবশ্যাকীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় অনুসর্গ। তাঁর দিক নির্দেশনায় জাতি পেয়েছিলো পথা চলার আদর্শ। বঙ্গবন্ধু তার কথা রেখেছেন। তিনি জীবন দিয়েছেন কিন্তু আপসের পথে হাঁটেননি। বঙ্গবন্ধু শরীরী উপস্থিতি আমাদের সঙ্গে নেই। কিন্তু তার আদর্শ আছে। যদিও এখন বিশ্বব্যাপী রাজনীতির ধরন এবং প্রেক্ষাপট অনেক বদলেছে। শোষিতের পক্ষের বিশ্বশক্তি দুর্বল। যুদ্ধ, অস্ত্র প্রতিযেগিতা চলছে। শান্তির ললিত বাণী পরিহাসের মতো শোনায়। তার পরও বলতে ইচ্ছে হয়, হাল ছেড়ো না বন্ধু।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব যতদিন থাকবে বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম ততদিন থাকবে। তাঁর আদর্শকে আমাদের বুকে ধারণ করবো। আজকের আলোচনার অংশগুলো যদি শিক্ষার্থীরা বুকে ধারণ করে তাহলেই এ অনুষ্ঠানের সার্থকতা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার. চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্যাহ, বিশিষ্ট কবি ও লেখক ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া প্রমুখ।
এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের স্মারক ডাক টিকেট জেলার ১০ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এছাড়া আলোচনা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানসহ অতিথিরা।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

২৯ মে, ২০২৩।