শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবসে চাঁদপুরে আ.লীগের আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী পরিবারের জন্য এ দিনটি ঐতিহাসিক দিন, আওয়ামী পরিবারের আনন্দ বেদনার দিন। তৎকালীন সামরিক সরকার চেয়েছিলে প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে বন্দী করে রাখতে। তারা চক্রান্ত করেছিলো প্রধানমন্ত্রীকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য, কিন্তু সামরিক সরকার তা পারিনি। আজ প্রধানমন্ত্রী জেলে থাকলে বাংলাদেশের চেহারা এমন হতো না। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে, আর এটা হয়েছে একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে। ২০০১-০৬ সাল সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের তা-বে মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত ছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না। আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। মূলত বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের কারণেই ১/১১ এর সৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন সেনা সমর্থিত অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট মামলা দেখিয়ে গ্রেপ্তার করেছিল। যে মানুষটি সারা জীবন মানুষের অধিকারের জন্য, ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলো সেই মানুষটিকেই গ্রেপ্তার করেছিল।
তিনি আরো বলেন, সেদিন শুধু শেখ হাসিনাকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি, গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গোটা বাংলাদেশকে। অবরুদ্ধ করা হয়েছিল গণতন্ত্রকে। তার মুক্তির জন্য সারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমেই আমরা সেদিন তাকে মুক্ত করেছিলাম। তাই ১১ জুন শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার কারাগার থেকে মুক্তির দিবস নয়, ১১ জুন হলো গণতন্ত্রের মুক্তির দিবস, অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাত্রা।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রত্যেকটি ইতিহাস জানতে হবে এবং তা বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সন্তোষ দাস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়াজী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন মন্টু দেওয়ান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল আহমেদ মঞ্জু মাঝি, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক দেওয়ান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান পাটোয়ারী, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অ্যাড. মো. হোসেন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রেনু বেগম প্রমুখ। আলোচনা শেষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

১২ জুন, ২০২৩।