সাহেদ হোসেন দিপু :
হাইমচর উপজেলার আলগী বাজারে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নোত্তর ফটোকপি করার সময় হাতেনাতে আটক দপ্তরি ও ফটোকপি অপারেটরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু দপ্তরিকে ফটোকপির জন্য পাঠানো প্রশ্নোত্তর ফাঁসের মূল হোতারা এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত আটক হয়নি।
থানা সূত্রে জানা যায়, হাইমচর উপজেলার ৭নং মডেল সপ্রাবির দপ্তরি মো. জুয়েল ভূঁইয়া গত ২১ নভেম্বর রাত ৮টায় ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নোত্তর ফটোকপি করতে যান উপজেলা সদর আলগীবাজারের আনন্দ স্টুডিওতে। ফটোকপি করার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে জুয়েল ও ফটোকপি অপরেটর সুদর্শন ভক্তকে আটক করে হাইমচর থানায় সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আহসানুজ্জামানকে সাথে নিয়ে আনন্দ স্টুডিওতে গিয়ে জুয়েল ও সুদর্শনকে প্রশ্নোত্তরসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
গতকাল বুধবার প্রশ্নোত্তর ফাঁস ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নোত্তর প্রশ্নের সাথে হুবহু মিলেছে বলেই পুলিশ জুয়েল এবং ফটোকপি অপারেটরকে আটক করেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সাথে শিক্ষক জড়িত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে নাম বলা যাচ্ছে না। এদিকে আটক জুয়েল গত ২১ নভেম্বর রাতে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, জনৈক শিক্ষক তাকে প্রশ্নোত্তর ফটোকপি করতে পাঠান। অপরদিকে ঘটনার পর থেকেই পূর্ব চরকৃষ্ণপুর মডেল সপ্রাবির জনৈক শিক্ষককে পরীক্ষা চলাকালীন সময় অনুপস্থিত দেখে সন্দেহের তীর তার দিকেই যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আহসানুজ্জামান (ভারপ্রাপ্ত) জানান, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আরো যারা জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাইমচর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও প্রশ্নোত্তর ফাঁসের তদন্ত কমিটির প্রধান মো. আলমগীর হোসেন জানান, পিএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান ফাঁস হওয়া যে প্রশ্নোত্তর জব্দ করা হয়েছে। তা গতকাল ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল পাওয়া গেছে। প্রশ্নোত্তর ফাঁসের সাথে জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং আটকদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
- Home
- প্রথম পাতা
- আটক হয়নি মূল হোতারা হাইমচরে প্রশ্নোত্তর ফাঁসে আটক ২জনকে জেলে প্রেরণ