সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচরর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের জালিয়ারচর বালু মহলের পাশে নদীর পাড় থেকে ৪ মন ইলিশ মাছ আটক করা হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি মো. হুমায়ুন প্রধানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. মাসুমের সহযোগিতায় এ মাছ আটক করেন।
গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় জালিয়র চর এলাকার নদীর পাড়ে মাছ বিক্রির সংবাদ পেয়ে হুমায়ুন প্রধানীয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. মাসুমের সহযোগিতায় মাছগুলো আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী বেগমকে খবর দিলে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপস্থিত হতদরিদ্র লোকজন ও বিভিন্ন এতিমখানায় মাছগুলো বিতরণ করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা সহযোগিতা না করলে একার পক্ষে জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ শতভাগ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, হাইমচর থানা পুলিশ, নীলকমল নৌ-পুলিশের সহযোগিতা আমি পেয়ে এসেছি। কোস্টগার্ড তাদের খেয়াল-খুশিমতো কাজ করছে। আমার সাথে কোন সমন্বয় করছে না। এছাড়া বায়ারচর পুলিশ ফাঁড়ির কোন রকমের সহযোগিতা আমি পাইনি, ফোন করেও তাদের পাওয়া যায় না। এছাড়া হাইমচরের প্রত্যেকটি খালের মুখ বন্ধ করে দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মৎস্য প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, হাইমচর থানার এসআই মোহাম্মদ আলি, নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. মাসুম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি হুমায়ুন প্রধানীয়া, ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলি মাস্টার, জেলে প্রতিনিধি মানিক দেওয়ানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি হুমায়ুন প্রধানীয়া জানান, আমার এলাকায় মাছ বিক্রির একটি গুঞ্জন শুনছি। কে বা কারা এ মাছ বিক্রি করে আমার তা জানা ছিল না। কারা এ মাছ বিক্রি করে তা জানার জন্য আমি লোকজন ঠিক করে দেই। তারই আলোকে আমার কাছে হঠাৎ ফোন আসলো মহন ঢালীর নেতৃত্বে সিরাজ মিজি, বাবুল গাজি, মনির মিজি ও তহু আলম নদীর পাড় সংলগ্ন বালু মাঠে মাছ ক্রয় করেছে। আমি বিষয়টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুমকে জানালে তিনিসহ আমরা নেতকর্মীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা মাছ ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে যায়। এ মাছ ব্যবসার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাশিয়ার সুরুজ এ মাছ নিধন এবং ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে তিনি জানান। তিনি সুরুজের মোবাইল ট্র্যাকিং করে আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান।
