পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ!
ইলশেপাড় রিপোর্ট
আগামি ১৭ অক্টোবর চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে থাকছে এক নতুন চমক। এমন চমক থাকবে কেবল চেয়ারম্যান পদকে ঘিরেই। এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণের মধ্যে দিয়েই চমকের দৃশ্যপট পাল্টে দিবে সব ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ। যা নিয়ে গুঞ্জন চলছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া ভোটের মাঠে বিকল্প কোন প্রার্থী নেই। স্বতন্ত্র ব্যানারে কেউ কেউ নির্বাচন অংশ নিবেন বলেও জোর চাউর রয়েছে। এতেই দৃশ্যপটে নাটকীয়তা থাকবে বলে রাজনৈতিক মহলগুলো সূত্রে জানা গেছে।
চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস বলছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৫ সেপ্টেম্বর। ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ইউসুফ গাজী, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসক ওচমান গণি পাটওয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমেদ মনজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, সৌদি প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়া।
তবে শেষ পর্যন্ত ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন কে থাকে আর কে প্রত্যাহার করে তার উপরই নির্ভর করবে ভোটের সমীকরণ। যদিও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ গাজী ইতিমধ্যেই দলীয় মনোনয়নপত্র নিশ্চিত করেছেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করছি। একই সাথে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ফের জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর তাঁর স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করার জন্যে আমি স্বেচ্ছায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।
অপরদিকে এই নির্বাচনের ভোটাররা বলছেন, জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামী লীগের পরিবারের বিকল্প প্রার্থীদের প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হলে ভোটের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কি হবে তা এখনি নিশ্চিত করা যাবে না। যদিও বিভিন্ন সূত্র বলছে, সাবেক চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারী ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ ভোটের মাঠে থাকলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
তবে জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে দেশের কোন বিরোধীদল অংশ না নেয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় যে ছিলো চূড়ান্ত। কিন্তু এবার ভোটের সমীকরণ ভিন্ন কিছু হতে পারে। যেমনটি হয়েছে গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে। এছাড়া সদ্য শেষ হওয়া জেলার ইউপি নির্বাচনে দু’একটি উপজেলা ছাড়া আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করতে পারেনি। পাশাপাশি নির্বাচিত সাধারণ সদস্যেদের অধিকাংশই বিরোধী দলীয় প্রার্থী ছিলো।
এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনটিতে থাকছে টানটান উত্তেজনা আর হাই-ভোল্টেজের উত্তাপ। যা ছড়াবে জেলা আওয়ামী লীগ পরিবারসহ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনকে। এমন উত্তাপ আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপর কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।
চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনটি ইভিএম (ইলেক্টনিক্স ভোটিং মেশিন) এ। আগামি ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১৯-২১ সেপ্টেম্বর আপিল শুনানি ও ২২-২৪ আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে রির্টানিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দিবেন ২৬ সেপ্টেম্বর।
জেলা নির্বাচন অফিস বলছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১ হাজার ২শ’ ৭৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯শ’ ৭৪ জন ও নারী ২শ’ ৯৯ জন। উপজেলা ভিত্তিক চাঁদপুর সদরে ২শ’ ৬ জন। হাইমচরে ৮০ জন, ফরিদগঞ্জে ২শ’ ১১ জন, মতলব দক্ষিণে ৯৪ জন, মতলব উত্তরে ১শ’৮৪ জন, কচুয়ায় ১শ’ ৭২ জন, হাজীগঞ্জে ১শ’ ৭৬ জন, এবং শাহরাস্তি উপজেলায় ১শ’ ৫০ জন ভোটার।
রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ১৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৫ জনসহ মোট ২১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হতো। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান ১ জন, সাধারণ সদস্য ৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জনসহ মোট ১২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
এবারের নির্বাচনে ৮ জন সাধারণ সদস্যের পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জনের ওয়ার্ড হচ্ছে ওয়ার্ড-১ চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জ। ওয়ার্ড-২ মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর ও কচুয়া এবং ওয়ার্ড-৩ হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা। জেলার ৮ কেন্দ্রের মোট ১৬টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
