চাঁদপুর-হাজীগঞ্জের নিহত ৩, আহত ৯ ও নিখোঁজ ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে চাঁদপুরের ৩ জন রয়েছেন। তারা হলেন- হাজীগঞ্জের মজিবুর রহমান (৫২) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২) এবং চাঁদপুর সদর উপজেলার ফারজানা আক্তার (১৮)। দুর্ঘটনায় আহত অর্ধ শতাধিক যাত্রীর মধ্যে চাঁদপুরের ৯ জন। এছাড়া আরো দু’জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত মজিবুর রহমান উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত আ. জলিলের ছেলে ও মজিবুর রহমানের স্ত্রী কুলসুমা বেগম এবং চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের উত্তর বালিয়া তালুকদার বাড়ির প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফারজানা আক্তার।
আহতরা হলেন- নিহত ফারজানার মা বেবী বেগম (৪০), ভাই হাসান বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ফারজানার মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাতো বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামতো ভাই জুবায়ের (৩), হাইমচরের রহিমা বেগম (৪৫), চাঁদপুরের মাইনুদ্দীনের মেয়ে নাইমা (৫)। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা-নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উদয়ন এক্সপ্রেসের দু’টি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বগি দু’টিতে থাকা ১৬ জন নিহতসহ অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, নিহত মজিবুর রহমান সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় হার্ডওয়্যার মালামালের ব্যবসা করতেন। এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম বাড়ি (হাজীগঞ্জ) থেকে শ্রীমঙ্গল যান। বাড়ি ফেরার উদ্দেশে স্ত্রীকে নিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে রেলপথে উদয়ন এক্সপ্রেসে ট্রেনে উঠেন মজিবুর রহমান। উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কসবায় মন্দবাগ রেলস্টেশনে আসা মাত্রই আন্তঃনগর তূর্ণা-নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মজিবুর রহমান ও কুলসুমা বেগম।
ট্রেন দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে দেখতে এসেছিলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও এলাকার মো. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি দুর্ঘটনাস্থল দেখার পর নিহতের মরদেহ দেখতে কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে বিদ্যালয়ের বারান্দায় নিজের চাচা মজিবুর রহমান ও চাচি কুলসুমার মরদেহ দেখতে পান। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ফোন দিয়ে নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
অপর নিহত ফারজানা আক্তার তার পরিবারের সদস্যের সাথে গত ৭ নভেম্বর তার খালাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে উদ্দেশে সিলেট যায়। সেখানে বেড়ানো শেষে বাড়িতে (চাঁদপুর) ফেরার উদ্দেশে সোমবার রাতে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মন্দবাগ রেলস্টেশনে আসা মাত্রই আন্তঃনগর তূর্ণা-নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফারজানা এবং আহত হন পরিবারের ৭ সদস্য।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী এবং ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার তার এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের কথা ছিল। তাই ফরম ফিলাপের উদ্দেশে সোমবার রাতে পরিবারের সাথে চাঁদপুরে আসার জন্য উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেন ফারজানা। কিন্তু তার নিহতের ঘটনায় আর ফরম ফিলাপ হলো না। তার মৃত্যুতে ও পরিবারের অন্য সদস্যেদের আহতের ঘটনায় পরিবারের চলছে আহাজারি ও বিদ্যালয়ে শোকের মাতম।
এদিকে একই ঘটনায় হাইমচর উপজেলার রহিমা বেগম, চাঁদপুর সদর উপজেলার মাইনুদ্দীনের মেয়ে নাইমা আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন মাইনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী ও তার মা। আহতরা সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।