স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার (০৯ জুন) স্বামী-স্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার জেলার হাজীগঞ্জে ৫ জন, সদরে ২ জন এবং কচুয়ায় একজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। মৃতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে।
করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হচ্ছেন- হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড়ের আবুল কাসেম (৫৫), খাটরা বিলওয়াইর সাগর কাজী (৪০), উপজেলার রামপুর গ্রামের হোসেন মল্লিক (৬৫) ও তার স্ত্রী (৫৫) এবং রাজাপুরের সুনীল দেবনাথ (৬০)। এছাড়া চাঁদপুর সদরের মৈশাদী গ্রামের টেলু মিয়া (৪২) ও ছোটসুন্দরের আবু বক্কর তালুকদার (৭০) এবং কচুয়ার গোহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি আব্দুল হাই মুন্সী (৬০) মারা যান। এদের সবার নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ঢাকায় চিকিৎসাধীন কচুয়ার গোহাট ইউপি চেয়ারম্যান হাজি আব্দুল হাই মুন্সীর করোনা শনাক্ত হয়েছেন।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, নমুনা পরীক্ষার প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ২৮৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২৩ জন মারা গেছেন। তবে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, নমুনা পরীক্ষার সুযোগ হয়নি চাঁদপুরে করোনার উপসর্গ নিয়েই এমন আরো ৪০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর ও জেলার হাজীগঞ্জে মৃত্যুর হার বেশি।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার থেকে নতুন নিয়মে চাঁদপুরে চালু হয়েছে লকডাউন। এতে নির্দেশনা হচ্ছে, শহরের কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে রোগীর বাড়ি লকডাউন হবে। গ্রামে হলে আক্রান্তের বাড়িসহ আশপাশের চারটি বাড়ি লকডাউন হবে।
তবে জেলা প্রশাসনের এমন নির্দেশনা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, গ্রামের চেয়ে শহর ঝুঁকিপূর্ণ। কারণে শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। তাই শুধু একটি বাড়ি লকডাউন করে করোনার বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
তিনি আরো বলেন, সড়ক, নৌ ও রেলপথ যোগাযোগের কারণে চাঁদপুর একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। এমন পরিস্থিতিতে অন্য জেলা এবং নজরদারির বাইরের মানুষগুলো চাঁদপুর শহরে ঢুকে পড়ছে। এতে ব্যাপকহারে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন শহরের লোকজন। তাই আক্রান্তের এলাকা চিহ্নিত করে পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা করার জন্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার পরিস্থিতির আলোকে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, রাজধানীর রাজাবাজার, নারায়ণগঞ্জ কিংবা কক্সবাজারের মতো এলাকা চিহ্নিত করে যদি চাঁদপুরে লকডাউন ঘোষণা না করা হয়। তাহলে পরিবর্তিত অবস্থায় এর জন্য চাঁদপুরের মানুষজনকে চরম মূল্য দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল গোটা চাঁদপুরকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। তারপর ৩১ মে থেকে আরেক দফায় কয়েকটি শর্ত দিয়ে সেই লকডাউন চলমান রাখা হয়। সবশেষ মঙ্গলবার থেকে নতুন নিয়মে তৃতীয় দফায় লকডাউন চলছে চাঁদপুরে। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্তদের বাড়িতে লাল নিশান উড়িয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। সেই সঙ্গে তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
৯ জুন, ২০২০।
