চাঁদপুরে নৌ-টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশ

 

চাঁদপুরে নৌ-টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থপন শেষে মোনাজাতরত নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপিসহ অন্যান্যরা। -ইল্শেপাড়

উন্নয়ন দেখে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি

নৌ বন্দরটি এমনভাবে করতে হবে যাতে শত বছরেও হাত না দিতে হয় : মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি

শেখ হাসিনার আশীর্বাদে চাঁদপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে :  সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি

এস এম সোহেল :
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন, দেশের ২৯টি নদী বন্দরকে আধুনিকায়ন করা হবে। চাঁদপুরের নদী বন্দর টার্মিনাল ভবন ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনার উন্নয়নে অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই হিংসা করে অনেকে বলে কোন উন্নয়ন হয়নি। উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট, এমন উন্নয়ন বিএনপির আমলে ছিলো। শেখ হাসিনার আমলে দেখতে হলে ফিটফাট চলে আসেন সদরঘাট। চাঁদপুরের নদী বন্দর টার্মিনাল ভবন ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে মেজর রফিক ও স্থানীয় সাংসদ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির অনেক ভূমিকা রয়েছে। চাঁদপুরে একটি আধুনিক নদী বন্দর টার্মিনাল নির্মাণ হবে।

গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় চাঁদপুরে ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী বন্দর টার্মিনাল ভবন ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চাঁদপুরে নৌ-টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থপন ও সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। পাশে সুধী সমাবেশে উপস্থিত একাংশ। -এস এম সোহেল।

মন্ত্রী আরো বলেন, চাঁদপুর মানে একটি সমৃদ্ধ জেলা। চাঁদপুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের ২ জন সেক্টর কমান্ডার রয়েছেন। চাঁদপুরে ডা. দীপু মনি রয়েছেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে সমুদ্র বিজয় হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এই নদীমাতৃক দেশকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছিলেন ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা।’ সেই নদী নাব্যতা হারিয়েছিলো। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নদী নাব্যতা সংকটে নৌ-মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। ৩ বছর ৭ মাসে ৭টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছি। অতীতে যা কেউ করতে পারেনি। ১৪টি ড্রেজার আমরা দেশে নির্মাণ করেছি ও ৪টি মাল্টি ড্রেজার ক্রয় করেছি। আরো ২০টি ক্রয় করা হবে। সরকার নদীর নাব্যতা সংকটে কোন কার্পণ্য করেনি।
তিনি বিএনপির সমলোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কারা গণতন্ত্রের কথা বলছে। যারা বিনা অপরাধে মানুষ পুড়িয়ে মারে, যারা যানবাহন পোড়ায়, স্টিমার পোড়ায়, কোরআন পোড়ায়- এই সন্ত্রাসীদের জন্য কোন গণতন্ত্র নেই। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ঈদের পর আন্দোলন হবে, কোন ঈদের পর আন্দোলন হবে- জানতে চাই। ঈদ তো অনেক গেলো। বিএনপি এখন কুজো ও পরগাছা দলে পরিণত হয়েছে। অন্যের উপর ভর করে ক্ষমতায় আসতে চায় বিএনপি। শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামীর আন্দোলনে ঢুকে সুযোগ নিতে চেয়েছিলো। পরে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে সুযোগ নিতে চেয়েছিলো। সর্বশেষ তাদের আবিস্কার ড. কামাল। বাংলার জনগণ বিএনপি-জামায়াতকে ডিসেম্বরে ব্যালটের মাধ্যমে সমোচিত জবাব দিয়ে দিবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর-৫ আসনের সাংসদ মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে আমি দীর্ঘ ৫ বছর কাজ করছি। এ পর্যন্ত ৭টি মিটিং করেছি, যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। নদী পথে যাতায়াত আমার কম করা হয়। তবে শৈশবে চাঁদপুরে নৌ ভ্রমণের অনেক স্মৃতি রয়েছে। নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের মতো এতো কর্মব্যস্ত মন্ত্রী আমার জীবনে কম দেখেছি। চাঁদপুরে নৌ-বন্দর নির্মাণে চাঁদপুরবাসীর পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি। এটি একটি আধুনিক নৌ-বন্দর হবে। এমনভাবে করতে হবে যেনো দেড়শো বছরে এতে হাত না দিতে হয়। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের নেতৃত্ব বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা গত ১শ’ বছরেও হয়নি। দেশের উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে আরেকবার শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, দেশে ৩টি নৌ-বন্দর রয়েছে- ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুর। এই ৩টির মধ্যে সেরা চাঁদপুর। ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর চাঁদপুরে নৌ-বন্দরের প্রকল্প জননেত্রী শেখ হাসিনা একনেকে অনুমোদন দেন। এই বন্দরকে ঘিরে চাঁদপুরের ৩ নদীর মিলনস্থলে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গত ১০ বছরে শেখ হাসিনার আশীর্বাদে চাঁদপুরে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। আজ দেশের মানুষের দিন বদলে গেছে। ২০০১ সালের মতো আমরা আর মুখ থুবড়ে পড়তে চাই না। আমরা আর হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবন দেখতে চাই না। এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী, গ্রেনেড হামলাকারীদের ক্ষমতায় দেখতে চাই না। শেখ হাসিনার ২০৪১ সালের ডেল্টা প্ল্যানিংসহ অপ্রতিরোধ্য বাংলাকে এগিয়ে আরেকবার নৌকায় ভোট চাই।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান পিএএ, পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির পিপিএম ও বিআইডব্লিউটিএ’র সিবিএন নেতা আবুল হোসেন।
কবি সাহিত্যিক ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আলম মিল্টন এবং জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুলের যৌথ পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা জাকির, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ মাস্টার, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক আলী এরশাদ মিয়াজী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আজিজ খান বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী বেপারী, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী মাঝি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, শেখ মো. মোতালেব, বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান পারভেজ, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারীসহ সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় ৪ একর ভূমির ওপর বর্তমান লঞ্চঘাট শহরের মাদ্রাসা রোডে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক লঞ্চঘাট। এ লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলগামী হাজার হাজার যাত্রীর সুবিধা হবে। প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ লঞ্চঘাট নির্মাণ করা হবে। ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর একনেকের সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। শহরের মাদ্রাসা রোডে বর্তমান লঞ্চঘাটটি ২ দশমিক ৪৮ একর জমির ওপর অবস্থিত। আরো দেড় একরসহ প্রায় ৪ একর জমির ওপর দ্বিতল ভবনের লঞ্চঘাট তৈরি করা হচ্ছে। দুইতলা বিশিষ্ট আধুনিক এই লঞ্চঘাটে ৬টি নতুন পন্টুন, ৬টি গ্যাংওয়ে, নৌ থানার স্থায়ী কার্যালয়, যাত্রী বিশ্রামাগার, নিশি বিল্ডিং এলাকার উত্তর পাশ দিয়ে ২০ ফুট চওড়া রাস্তাসহ দু’টি ওয়ানওয়ে রাস্তা হবে। এছাড়া ৪-৫শ’ সিএনজি-অটোরিক্সা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে এ লঞ্চঘাটে।