পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর হরিসভা এলাকায় নদীর ভাঙন স্থান পরিদর্শন


স্টাফ রিপোর্টার
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন, আগে-ভাগে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেয়ায় দেশে এবার বন্যা ও নদীভাঙনের বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। দেশে ২০২০ সালে ৪শ’ ৪৮টি খাল খনন কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যে এ কাজের অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রী গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন স্থান পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এবার যেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে খাল খনন কার্যক্রম তাকে অনেক সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। খাল খনন চলমান থাকায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে। এরপর যেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সবাইকে মোকাবেলা করতে হবে। আগে বাংলাদেশে নদীভাঙন দেখা দিলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সেভাবে কাজ করতে পারতো না, কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি হয়েছে এবং আমরা এখন স্বাবলম্বী হয়েছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর পার্শ্ববর্তী দেশ চীন, ভুটান, নেপাল ও ভারতে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা অতীতে কখনো হয়নি। আমরা যেহেতু ভাটির দেশের লোক, সেহেতু এই পানি আমাদের দিকে প্রবাহিত হয়ে আসবেই। আর এতে আমাদের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার নেই। আপনারা অনুধাবন করে দেখবেন, এ বছর যে পরিমাণে বৃষ্টি ও বন্যা হয়েছে, এটা কিন্তু অতীতে যত বন্যা ও বর্ষা হয়েছে তার চাইতে দ্বিগুণ। সে তুলনায় আমাদের ক্ষয়ক্ষতি কিন্তু অনেক কম হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ডেল্টা প্ল্যান।
তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছেন, সেই প্ল্যানের আওতায় আমরা দেশের ৬৪টি জেলায় খাল খনন কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে এসব খাল খননের ৫০% শেষ হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ৪৪৮টি খাল রয়েছে। খননের কাজ শেষ হবে ২০২০ সালে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিক উল্যাহ, জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়সহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাত ৯টার সময় হঠাৎ মেঘনার ভাঙনে হরিসভা মন্দিরের সামনে শহর রক্ষার প্রায় ২শ’ মিটার ব্লক ভেঙে ব্যবসায়ী মরণ সাহা ও শম্ভুনাথ মজুমদারের বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙনের ব্যাপকতায় ১৫টি বসতঘর ও ভিটে-মাটি এই ভাঙনে বিলীন হয়। ভাঙন আতঙ্কে আশপাশের আরো পঞ্চাশটি পরিবার তাদের ঘর খালি করে আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

০৮ আগস্ট, ২০১৯।