মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন রহমতপুর কলোনীর বাসিন্দারা

 

একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্কির জন্য

স্টাফ রিপোর্টার
একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্কির জন্য মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন রহমতপুর কলোনীর কয়েকটি পরিবার। ৭০ বছরের পুরনো ট্যাঙ্কিটি প্রায় ৩২ বছর যাবত অব্যবহৃতই পড়ে আছে। কিন্তু এর কারণে ঐ এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
চাঁদপুর পৌর এলাকার ১০নং ওয়ার্ডের রহমতপুর কলোনীর ১১৩৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাসিন্দা পারভিন বেগমসহ কয়েকটি পরিবারের দিন কাটে এক ভয়ঙ্কর মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে। কারণ তার বসতঘরের চালার উপরেই ৭০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ নড়বড়ে পরিত্যক্ত এক পানির ট্যাঙ্কির অবস্থান। বর্তমানে এ পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্কের চারটি পিলারের পলেস্তরা খসে পড়ে ভিতরের জং ধরা রডগুলো বেরিয়ে এসেছে। যার ফলে যে কোন সময় এ ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন পারভিন বেগমসহ আশপাশের বাসিন্দারা।
পারভিন বেগমের পাশের বাড়িটি মরহুম আ. রশিদ খানের। যার হোল্ডিং নং ১১৩৩। সামনেই আছে নুর কটেজ, যার হোল্ডিং নং ১১৩৯। এসব বাড়ির বাসিন্দাদের সবারই সেই একই ভয়।
সরেজমিনে গিয়ে পারভিন বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, দু’টি ছোট সন্তান নিয়ে খুবই ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। কারণ, তার মাথার উপরেই তো মৃত্যু পরোয়ানা হিসেবে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ নড়বড়ে এক বিশাল আকৃতির পানির ট্যাঙ্ক। তাছাড়া এটা ভেঙে পড়লে যে শুধু তার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমনটা নয়, আশপাশের দু’তিনটি পরিবারেরও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। তারাও সব সময় চিন্তার মধ্যে থাকেন, কখন জানি এ ট্যাঙ্কটি আমাদের বসতবাড়ির উপর ভেঙে পড়ে আমাদের জান-মালের ক্ষতি হয়। তাদের এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। কারণ বর্তমানে এ পরিত্যক্ত ট্যাঙ্কিটির অবস্থা এমনই বেহালদশা।
এ পানির ট্যাঙ্কিটি এক সময় রহমতপুর কলোনীর বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। কিন্তু ১৯৮৮ সালের পর থেকে এ ট্যাঙ্কিটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। দীর্ঘ ৩২ বছর এর কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ। এক কথায় এটি এখন পরিত্যক্ত। এই সুদীর্ঘ ৩২ বছর এভাবেই এটা পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাই জনমনে প্রশ্ন, এই অকার্যকর পানির ট্যাঙ্কিটি এখানে এভাবে ফেলে রাখার কি প্রয়োজন?
এ প্রসঙ্গে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ হাকিম, ফাতেমা বেগম, সোহেল রানাসহ আরো অনেকের সাথে। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, তারা যেনো এ জরাজীর্ণ নড়বড়ে পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্কিটি অনতিবিলম্বে ভেঙে ফেলে তাদের এ মৃত্যুর ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করেন।
রহমতপুর কলোনীবাসীর আশঙ্কা এটা দ্রুত অপসারণ করা না হলে যে কোন মুহূর্তে এ জরাজীর্ণ পানির ট্যাঙ্কিটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে মারাত্মক কোন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। যা এ কলোনীবাসীর কারোই কাম্য নয়। আর এমনটা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার দায় কোন অবস্থাতেই এড়াতে পারবেন না।
তাই রহমতপুর কলোনীর বাসিন্দারা এ ব্যাপারে পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করছেন- যেন অচিরেই এই পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকটি এই স্থান থেকে অপসারণ করে মৃত্যুর হাত থেকে তাদের রক্ষা করেন।
২২ মার্চ, ২০২১।